গুয়াহাটি, ১৮ জুন (হি.স.) : গত সপ্তাহখানেক থেকে অসম সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ইতিমধ্যে মণিপুর, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, মিজোরামের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে অসমের ব্রহ্মপুত্র সহ প্রায় সব নদী, উপনদীর জলস্তর আবারও বাড়ছে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের পাশাপাশি কপিলি, বরাক, কাটাখাল এবং কুশিয়ারা নদীগুলি বিপদ চিহ্নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের ১৪টি জেলার ২১টি রাজস্ব সার্কলের ৩০৯টি গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে করিমগঞ্জ, তামুলপুর, বঙাইগাঁও, লখিমপুর, ওদালগুড়ি, দরং, ধেমাজি, নগাঁও, হোজাই, চিরাং, বারপেটা, বাকসা, নলবাড়ি এবং গোয়ালপাড়ার বহু গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে করিমগঞ্জ জেলা। করিমগঞ্জে ৯৫,৩১৫ জন বন্যার কবলে পড়ছেন। নগাঁওয়ে ৪,৯৮২, ধেমাজিতে ৩,৬২১ এবং বরপেটা জেলায় ১,১০৯ জন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে করিমগঞ্জ জেলায় ৭২ জন মানুষ এবং পাঁচটি পশুকে নৌকার মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নগাঁও জেলার অন্তর্গত কামপুর রাজস্ব সার্কল এাকায় কপিলি নদী বিপজ্জনকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। কামপুরের প্রায় ১০০৫.৭ হেক্টর কৃষি জমি তলিয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে ৩,১৬৮ জন ১৪টি ত্রাণ শিবিরে আশ্ৰয় নিয়েছেন। বন্যার ফলে মানুষ এবং সম্পত্তি উভয়েরই ক্ষতি হয়েছে।
ধেমাজি জেলায় ২১টি বড় প্রাণী ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ৬২,১৭৩টি প্রাণীকেও প্রভাবিত করেছে। এগুলির মধ্যে গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বন্যা কবলিত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, অসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান চলছে।