শিলচর (অসম), ১৮ জুন (হি.স.) : গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে বরাক উপত্যকার সর্বত্র। ফলে বরাক নদী সহ উপত্যকার উপনদীগুলোতে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অসংখ্য গ্রাম। আউশ, মুরালি ধান খেতের পাশাপাশি শাক-সবজির খেত নষ্ট হচ্ছে সবকয়টি গ্রামে।
গত ২৯ মে প্রথম দফার বন্যার কবলে পড়েছিল বরাক উপত্যকার বহু গ্রাম। তখন অবশ্য পাঁচদিনের মাথায় বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় জলের স্তর ধীরে ধীরে কমে যায়। বন্যার ভয়াবহতা থেকে তখনকার মতো রক্ষা পেয়ে গেলেও এবারের লাগাতার বৃষ্টিপাতের জন্য দ্বিতীয় দফার বন্যার আতঙ্কে থরহরি কাছাড় তথা সমগ্র বরাক উপত্যকার জনগণ।
বরাক নদীর জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৮.৭২ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে নদীর জলস্তর। ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার গতিতে জলস্তর বৃদ্ধি হচ্ছে। বিশেষ করে কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা এলাকার অবস্থা বেগতিক হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত জালালপুর, গুমড়া, মহাদেবপুর, বাটুলমারা, নাতানপুর, টুকেরগ্রাম, খেলমা, সাদিরখাল, আমতলা, হরিনগর, রাজাটিলা, জগদীশপুর, জাবদা হাওর, কড়ইকান্দি, সালিমাবাদ, কালাইন কলেজ রোড, ব্রাহ্মণগ্রাম, ধুমকর, লক্ষ্মীপুর, অলইচিরিপার, ভৈরবপুর, নাথপাড়া, বিশ্বম্ভরপুর, নিজ জালালপুর, করচুড়া, কাশীবন, ভাটপাড়া, বরইতলি, হিলারকান্দি, মরইউড়া, হাতিরগড়, আজোমারা, ফুনারিকান্দি, সৈয়দপুর প্রভৃতি গ্রামের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
প্রতিটি গ্রামে ব্যাপকহারে জল বাড়ছে। পাহাড়ি নদী, লারাং নদী, বলেশ্বর নদী, গুমড়া নদী, কালাইন নদীর জলস্ফীতি তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
এদিকে বরাক নদীতে জলস্তর বেড়ে চলছে। এছাড়া বরাকের জল বাড়ার পাশাপাশি উপনদী কাটাখাল, হারাং, ঘাঘরা, জিরি, চিরি, মধুরা, জাটিঙ্গা, রুকনি, ধলেশ্বর প্রভৃতি নদীতে তীব্র গতিতে জল বাড়ছে।
একইভাবে করিমগঞ্জ জেলার লঙ্গাই, সিংলা, কুশিয়ারা প্রতিটি নদীতে জল বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়ংকর বন্যা পরিস্থিতির পুনরাগমের আতঙ্ক তাড়া করছে বরাক উপত্যকার জনমনে। যদিও কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি, তিন জেলার দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ তথা জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথার্থ পদক্ষেপ সহ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।