উঠল নিষেধাজ্ঞা, গভীর সমুদ্রে ইলিশের সন্ধানে রওনা বহু ট্রলার

ডায়মন্ড হারবার, ১৫ জুন (হি.স.): জামাই ষষ্ঠীতে হিমঘরের ইলিশ দিয়েই জামাই আদর করেছেন শাশুড়িরা। কারণ চলতি বছরে এখনও ইলিশ ওঠেনি জল থেকে। মৎস্যজীবীরা কার্যত গত দু’মাস সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান নি। তবে দু’মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে শুক্রবারই। তাই শনিবার সকাল থেকে শ’য়ে শ’য়ে ট্রলার ইলিশের খোঁজে পাড়ি দিতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

দিনরাত এক করে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। এপ্রিলের ১৪ তারিখ থেকে জুন মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত মাছ ধরার উপর থাকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কোনও মৎস্যজীবী তখন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারে না। শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞা উঠতেই শনিবার গভীর সমুদ্রে ইলিশের খোঁজে যাত্রা শুরু করছেন মৎস্যজীবীরা। তাই সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দু’চার দিনের মধ্যেই তাজা ইলিশ মিলবে বাজারে। প্রতিটি ট্রলারেই পর্যাপ্ত পরিমাণে জলখাবার, তেল, বরফ সমস্ত কিছুই মজুত করে নেওয়া হচ্ছে। ট্রলারে চলছে পুজো দেওয়ার পালা। শনিবার সকালে লাইসেন্স নিয়েই রূপালী শস্য ইলিশের সন্ধানে পাড়ি দেবে ট্রলারগুলি।

গত কয়েক বছর ধরে ভালো ইলিশের দেখা মিলছে না। তবে এ বছর তারা অনেকটাই আশাবাদী কারণ একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় রেমাল ইতিমধ্যেই বয়ে গেছে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে। পূবালী বাতাস আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ইলিশ ধরার আদর্শ পরিবেশ। সেটা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি মৎস্যজীবীদের। ফলে এবার মৎস্যজীবীরা জালে প্রচুর রুপালি শস্য পড়বে বলেই আশাবাদী তাঁরা।

প্রতিবারই এই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। তাই এবছর কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের নিয়ে একটি মহড়া ও করা হয়েছে যেখানে কোন মৎস্যজীবীর ট্রলার যদি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে মৎস্যজীবীদের, তা নিয়েই একটি মহড়া করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।

এ বছর প্রত্যেক ট্রলারে থাকছে লাইভ জ্যাকেটের ব্যবস্থা। অন্যদিকে লাইফ জ্যাকেটের পাশাপাশি লাইভ বোয়া। যার মাধ্যমে যদি কোন ভাবে ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৎস্যজীবীরা ওই বোয়ার মাধ্যমে ভেসে থাকতে পারবেন। অন্যদিকে বেশ কিছু ট্রলার উত্তাল সমুদ্রে পথ ভুলে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে তাদের জন্য এবছর থাকছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রেডিও টেকনোলজির ব্যবস্থা যার মাধ্যমে দিকভ্রষ্ট ট্রলার গুলিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রথম পর্যায়ে ৫০০ থেকে ৭০০ ট্রলার পাড়ি দিচ্ছে গভীর সমুদ্রে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি ট্রলার গুলি পাড়ি দেবে। এই বিষয়ে সুন্দরবন শ্রমজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি সতিনাথ পাত্র জানায়, অত্যাধিক গরম ও ভোটের জন্য অনেক মৎস্যজীবী ভোট দিতে বাড়িতে চলে গেছে অনেকে এখনো পর্যন্ত ফিরতে পারেনি তাই সমস্ত ট্রলার পাড়ি দিতে পারছে না প্রথম পর্যায়ে। তবে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ভোজন রসিক বাঙালির পাতে পড়তে চলেছে টাটকা ইলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *