পাথারকান্দি (অসম), ১০ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে লাথি এবং পুলিশ কৰ্মী ও বিজেপি কার্যকর্তাকে মারধরেরে অভিযোগে পাথারকান্দির প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য রাজু রাজকুমারকে আজ সোমবার জেল হাজতে পাঠিয়েছেন করিমগঞ্জের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট।
রবিবার পাথারকান্দিতে ছিল বিজেপির বিজয়ী প্রার্থী কৃপানাথ মালার বিজয় মিছিল। বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে এদিন দুপুরে স্থানীয় রবীন্দ্র ভবনে চলছিল আয়োজনের ব্যস্ততা। রবীন্দ্র ভবনের বাইরে সাউন্ড সিস্টেমের গাড়ির পাশে আচমকা এসে হাজির হন পাথারকান্দির প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য রাজু রাজকুমার। তিনি এসে নাকি বিনাপ্ররোচনায় প্রথমে আব্দুল রহিম নামের যুব মোর্চার এক কার্যকর্তার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। ঝগড়া একসময় হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়।
এতক্ষণ মোটামুটি ঠিক ছিল। কিন্তু এক সময় উত্তেজিত রাজু গাড়িতে সাঁটা প্রধানমন্ত্রীর কাটআউটে লাথি মেরে বসেন। ঘটনার পর বিজেপির যুবমোর্চার কার্যকর্তারা রাজুর দিকে তেড়ে যান। তখন বেগতিক দেখে পালিয়ে গা ঢাকা দেন রাজু রাজকুমার।
এর পর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাথারকান্দি থানায় রাজু রাজকুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন পাথারকান্দি বিজেপির ব্লক মণ্ডল সভাপতি শশীবাবু সিনহা।
এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ এক মামলা রুজু করে এদিন বিকালের দিকে গোপন এক স্থান থেকে রাজুকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশ যখন তাকে ধরতে যায়, তখন রাজু নাকি পুলিশের এএসআই জনৈক ফরিজ উদ্দিন লস্করের সাথে ধস্তাধস্তি ও অশালীন আচরণ করেছেন।
এ ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশের এএসআই ফরিজ উদ্দিন লস্কর এবং বিজেপির যুবমোর্চার কার্যকর্তা আব্দুল রহিমও। মোট তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয় অভিযুক্ত রাজুর বিরুদ্ধে।
রাতভর থানায় আটকে রেখে আজ সোমবার দুপুরে পুলিশের তদন্তকারী অফিসার বিশাল ছেত্রী রাজু রাজকুমারকে করিমগঞ্জে মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে পেশ করে। শুনানি শেষে আদালতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে রাজুকে পাঠানো হয় জেল হাজতে।