পেকুছড়ার উদ্বাস্তু পরিবারগুলি ডেপুটেশন দিল জেলা শাসকের নিকট

নিজস্ব প্রতিনিধি, পানিসাগর, ৩ জুন: পানিসাগর মহকুমার পেকুছড়া গ্রামে  বনদপ্তরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পলিথিনের অস্থায়ী ঘর তৈরি করে প্রায় একমাস ধরে বসবাস করে আসছে ও উপজাতি বাঙালি পরিবারগুলো। জাতি দাঙ্গার কবলে পড়ে তারা গৃহহারা হয়েছিল প্রায় কুড়ি বছর আগে। তাদেরকে উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেনি সরকার। বাধ্য হয়েই তারা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে বসবাস করে চলেছে। সরকার তাদের পুনর্বাসনের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অফুরন্ত তাদেরকে উচ্ছেদ করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পরিবার গুলোর তরফ থেকে জেলাশাসকের কাছে মানবিক আবেদন নিয়েছেন উদ্বাস্তু পরিবার গুলি। না আছে খাদ্য, না আছে জল। কাপড় বাঁশ আর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা ঘরের মধ্যে জীবনযাপন করে চলেছে শতাধিক পরিবার। প্রায় ২০ বছর যাবত আনন্দবাজার, দশদা গোছিরাম পাড়া, জয়শ্রী  থেকে জাতি দাঙ্গার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে এসেছে বহু পরিবার। এখন তাদের একমাত্র ভরসা সেই বাস ও পলিথিনের তৈরি আস্তানা। পানিসাগর মহকুমার পেকুছড়া গ্রামে প্রায় একমাস যাবত বসবাস করছে এই উদ্বাস্তু বাঙালি পরিবার গুলি। তাদের প্রতি বনদপ্তরের আক্রোশ অব্যাহত রয়েছে। কখনো পানীয় জলের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় ,কখনো তাদের ঘরবাড়ি ছিঁড়ে ফেলে পরিষ্কার করে ফেলে। এভাবেই চলছে তাদের জীবন সংগ্রাম।

আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। তাই ২৮টি পরিবারের সদস্যরা টাকা-পয়সা একত্রিত করে  মাত্র তিনটি পরিবার এসেছে জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিতে। কোনভাবেই যাতে তাদের তুলে না দেওয়া হয়। একদিকে চলছে রোদ-বৃষ্টির খেলা, অপর দিকে চলছে মানুষের জীবন সংগ্রাম। এই নিয়ে তিনটি নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে। ৬ জুন যদি এরা নিজেদের আস্তানা গুটিয়ে না ফেলে তবে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এরা ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতের নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার রয়েছে। সোমবার পেকু ছড়ার এইসব পরিবারগুলির পক্ষ থেকে এক মানবিক ডেপুটেশন দেওয়া হয় উত্তর জেলার জেলা শাসকের কাছে। এখন উত্তর জেলার শাসক মানবিক আবেদনে সাড়া দেয় কিনা এবং কি ধরনের সাড়া দেয় তাই দেখার।