নিজস্ব প্রতিনিধি, বক্সনগর, ২৬ মে: চিনি বোঝাই মারুতি ভ্যানের ধাক্কায় অবশেষে মৃত্যু হলো যুবক রামপ্রসাদ দেবের। দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার সকাল আটটায় রাজধানীর জিবিপি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯.৩০ মিনিট নাগাদ কলমচৌড়া থানা সংলগ্ন রাস্তার পাশের আম গাছের নিচে হালকা বাতাসে আম কুড়াতে গেলে যুবক রামপ্রসাদ দেবকে বক্সনগর বাজার থেকে দ্রুত গতিতে আসা টিআর০৮ -সি – ০২৬১ নম্বরের একটি চিনি বোঝাই মারুতি ভ্যান সজোড়ে ধাক্কা মারলে, পাশেই ছিটকে পড়ে যুবক এবং প্রচন্ডভাবে রক্তাক্ত ও জখম হয়। পরবর্তীতে রবিবার সকালে জিবি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
এদিকে যুবকের মৃতদেহ বক্সনগরে পৌঁছতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। তারা কলমচৌড়া থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় এবং থানা প্রশাসনের বিরুদ্ধেও চরম ভাবে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত পনেরো দিনে এমন ভাবে চিনির গাড়ির চাঁপায় বড়সড়ভাবে তিনটি দুর্ঘটনা হলেও ছোট খাটো দুর্ঘটনা তো হয়েই চলছে। সীমান্তেও মৃত্যু হয়েছে একাধিক যুবকের। এদিকে যুবকের মৃত্যুতে আন্দোলন কারীরা জানায়, থানা প্রশাসন পাচারকারীদের সাথে গোপন সখ্যতা রেখে তাদেরকে ফায়দা দিয়ে চলছে। তবে চিনির এমন রমরমায় গোটা বিষয়ে স্থানীয় থানা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদত থাকায় রবিবার যেন তারই বহিপ্রকাশ ঘটতে দেখা গেল।
কলমচৌড়া থানার ইতিহাসেই নয়, হয়তো রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার থানায় ওসি’র কোয়ার্টারে আন্দোলনকারীরা প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা করে। যদিও কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় উঠে যায় প্রমিলা বাহিনী, পাছে অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা দৌড়ে গিয়ে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচান ওসি প্রশান্ত কুমার দে’র।
থানা সূত্রে খবর, ওসি সাহেব তার কোয়ার্টারে থাকলেও আন্দোলনকারীরা এই খবর জানতেন না। কিন্তু তিনি যে সেখানে আছেন, কোনো এক মাধ্যমে সেই খবর জানতে পারায় আন্দোলনকারীরা সেখানে ছুটে যান এবং তাকে হামলার চেষ্টা করেন। সব মিলিয়ে অতীতের সমস্ত রকমের সুনামকে জলাঞ্জলি দিয়ে এক কলঙ্কজনক ইতিহাস রচিত হলো কলমচৌড়া থানায়।
এদিকে বেলা প্রায় চারটায় কলমচৌড়া থানায় ছুটে আসেন বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পান্নালাল সেন। তিনি সেখানে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন উপায়ে শান্তনা দেওয়া সহ তাদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে সেগুলো উর্ধ্বতন মহলে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।