ইমফল, ১৬ মে (হি.স.) : মণিপুরে দুই যুবককে বন্দুকের মুখে অপহরণ করে নৃশংসভাবে মারধর করেছে অজ্ঞাতপরিচয় কতিপয় দুষ্কৃতী। থউবাল জেলার অন্তৰ্গত লিলং আওয়াং লেইকাইয়ে সংগঠিত হামলা ও অপহৃতদের মধ্যে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর গুরুতর আহত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতর সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। সূত্রের খবর, গতকাল বুধবার বিকাল প্রায় পাঁচটা নাগাদ থউবাল জেলার অন্তৰ্গত লিলং আওয়াং লেইকাইয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কতিপয় দুষ্কৃতী গুলি হামলা চালায়। এক সময় বন্দুকের মুখে মহম্মদ জহির খান ওরফে আতোম্বা (২৩) এবং মহম্মদ ফরিদ খান ওরফে বয়চা (২০)-কে অপহরণ করে একটি চার চাকার গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
আজ ভোরের দিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অপহৃত দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে অসংখ্য নৃশংস হামলার চিহ্ন রয়েছে। উভয়কে থউবাল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার মহম্মদ জহির খানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত ফরিদ খানকে রাজ মেডিসিটিতে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) নামের বেসরকারি সংগঠন সোচ্চার হয়েছে। তারা দুষ্কৃতীদের ধরতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদে, কেইবুং মায়াই লেইকাই-এ অবস্থান বিক্ষোভ সংগঠিত করছেন জেএসি-র কর্মকর্তা ও সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা দোষীদের শীঘ্র গ্রেফতার করতে এবং মহম্মদ ফরিদ খানের চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রদান করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভস্থলে দাঁড়িতে জেএসি আহ্বায়ক মহম্মদ সহিদ খান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর ঘটনার বিবরণ শুনিয়েছেন। তিনি জানান, কোনও এক ঘটনা সম্পৰ্কে অপহরণকারীরা মঙ্গলবার রাতে জহির খান ও ফরিদ খানের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। গতকাল বুধবার সকালে তারা ওই ঘটনার ওপর আলোচনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বিকালে তারা এসে জহির ও ফরিদকে বন্দুকের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি তারা, দুজনকে মেরে ফেলতে নৃশংসভাবে মারধর করেছে। একজন ফরিদের আপাতত প্রাণরক্ষা হলেও, শেষ রক্ষা হবে কিনা সন্দেহ ব্যক্ত করেছেন জেএসি আহ্বায়ক মহম্মদ সহিদ খান।

