সাধারণ নির্বাচন ২০২৪-এ অংশ গ্রহণ বাড়াতে নতুন ও শহুরে ভোটারদের সংযুক্ত করতে সামাজিক মাধ্যমের ক্ষমতাকে ব্যবহার করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন

গণতন্ত্রের উৎসবে অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘টার্নিং ১৮’ প্রচারাভিযানের মাধ্যমে যুব ও প্রথমবারের ভোটারদের অনুপ্রাণিত করছে

কোনো ভোটদাতাই যাতে বাদ না যান, তা সুনিশ্চিত করতে ভোট প্রক্রিয়া সহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার গুরুত্ব চিহ্নিত করতে ‘ইউ আর দ্য ওয়ান’ অভিযান 

নয়াদিল্লি, ৮ এপ্রিল : সমগ্র দেশ এখন লোকসভা নির্বাচন ২০২৪ এর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে| এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টার্নিং ১৮’ এবং ‘ইউ আর দ্য ওয়ান’-এর মত অনন্য প্রচারাভিযানের মাধ্যমে নাগরিকদের সংযুক্ত করতে উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে| ‘চুনাও কা পর্ব, দেশ কা গর্ব’ অর্থাৎ ‘নির্বাচনের পরব, দেশের গরব’ এই ভাবনায় চালিত হয়ে এই প্রচারাভিযান| বর্তমানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ইউটিউব সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রধান মঞ্চগুলোতে নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতি রয়েছে| এর পাশাপাশি সম্প্রতি পাবলিক অ্যাপ, হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেল এবং লিংকেডিন-এর সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে|

‘টার্নিং ১৮’ প্রচারাভিযান:

নির্বাচনে ভোটদাতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শহুরে উদাসীনতা ও যুবদের উদাসীনতাকে একটি উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন| অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে তাই বিশেষ ভাবে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটদাতাদের লক্ষ্য করে ‘টার্নিং ১৮’ নামের প্রচারাভিযান শুরু করেছে| যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আগের নির্বাচনগুলোতে দেখতে পাওয়া শহর এলাকার ও যুবদের উদাসীনতার মত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করা|

‘টার্নিং ১৮’ প্রচারাভিযানটি এর শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় থিম ও কৌশল ব্যবহার করে| যে কৌশলে সহজে বোঝা ও যুক্ত হওয়ার জন্য মূল ভাবনার সঙ্গে সংযুক্ত লোগো ব্যবহার করা হয়| পাশাপাশি বিগত বছরগুলোতে যে অগ্রগতি এসেছে, সেটা বোঝানোর জন্য আগের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে বর্তমান নির্বাচনের তুলনা করে ‘দ্যান ভার্সাস নাও’ অর্থাৎ ‘তখন বনাম এখন’কে চিত্রিত করা হয়| তাছাড়া ১৮ বছর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট দানের গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে এই প্রচার অভিযানটি নতুন ভোটারদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধকে অনুপ্রাণিত করে| উপরন্তু নির্বাচনে মহিলা ভোটদাতাদের, বিশেষ করে ১৮-৩০ বছর বয়সী মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়ে করা তথ্যের গ্রাফিক্স, ভারতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিকেই প্রদর্শন করে|

রাজ্যগুলোর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং জাতীয় গণ-সম্প্রচার মাধ্যম ডিডি নিউজ ও আকাশবাণী ব্যাপকভাবে প্রচার চালানোয় ‘টার্নিং ১৮’ প্রচারাভিযানের প্রভাব উল্লেখযোগ্য| উপরন্তু আরও বেশি প্রভাব ফেলার জন্য জাতীয় ও রাজ্য স্তরে এস.ভি.ই.ই.পি. আইকনের জনপ্রিয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে সহযোগিতা করছে নির্বাচন কমিশন| এই সমন্বিত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা সমাজের বিভিন্ন অংশে প্রচারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য গতি তৈরিতে সহায়তা করছে|

‘ইউ আর দ্য ওয়ান’ প্রচার অভিযান:

নির্বাচন কমিশন ‘টার্নিং ১৮’ প্রচারাভিযানের উপর ভিত্তি করে ‘ইউ আর দ্য ওয়ান’ নামের আরও একটি প্রচার অভিযান শুরু করেছে| যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের অংশীদারদের অমূল্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এর উদযাপন করা| নির্বাচনে ভোটদাতা এবং রাজনৈতিক দলগুলো থেকে শুরু করে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও), গ্রাউন্ড স্টাফ, ভোটকর্মী, প্রশাসনিক কর্মী, প্রচার মাধ্যমের কর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নিরাপত্তা কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা ও দক্ষতা সুনিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে| আকর্ষণীয় গল্প ও চিত্তাকর্ষক দৃশ্যকল্পের মাধ্যমে এই প্রচার অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিষ্ঠা ও সংকল্পকে তুলে ধরে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় তাঁদের ভূমিকা ও দায়িত্বকে গর্বিত করে|