নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৩১ মার্চ: গ্রেফতার উত্তর জেলার ত্রাস সৃষ্টিকারী ডাকাত নাজিমউদ্দিন। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে উত্তর জেলা তথা ত্রিপুরার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের বরাক উপত্যকায় ত্রাস সৃষ্টিকারী ডাকাত নাজিম উদ্দিন খানিক সময়ের গোলাগুলির পর আটকে পড়ে পুলিশের জালে। যদিও পুলিশ নাজিমুদ্দিন এবং তার সঙ্গীকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালায়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় কদমতলা থানাধীন ফুলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের কুটু চান মিয়ার ছেলে ৩৩ বছরের নাজিমউদ্দিন দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর যাবৎ চুরি ডাকাতি করে চলেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর জেলা নয় সারা রাজ্যে এমনকি পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের বরাক উপত্যকায় একের পর এক ছোট বড় চুরি ডাকাতি সবকিছুর সাথে সে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্বাভাবিকভাবে এবার বাগবাসা উত্তর গঙ্গানগর এলাকায় জনৈক ব্যবসায়ীর বাড়ির পাশে ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে নাজিমউদ্দিন তার এক সঙ্গীকে নিয়ে অস্থায়ী আস্তানা গেড়েছিল। পুলিশ খবর পেয়ে তাদেরকে ধাওয়া করতে গেলে গাদা বন্দুক দিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ চালায় তারা। পুলিশও শূন্যে গুলি করে এগিয়ে গেলে তারা পুলিশের জালে নিজেদেরকে আত্মসমর্পণ করে দিতে বাধ্য হয়।
শুক্রবার ভোর ছয়টার দিকে পুলিশের জালে ধরা পড়লেও রবিবার দুপুর সোয়া বারোটায় সাংবাদিকদের সম্মুখে আনা হয় ওই ডাকাতদের। তাদের কাছ থেকে দুটি গাদা বন্ধুক, দা এবং লক কাটার উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে তারা দুজন ছিল। পুলিশের তোপের মুখে একজন পালিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে কুমারঘাট থানায় চার্জশিট রয়েছে। দুইদিন ধর্মনগর উত্তর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার পর পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আনা হয়েছে নাজিম উদ্দিন কে। আরো জানা গেছে এরা একটি বিশাল চক্রের সাথে জড়িত এবং ত্রিপুরাতে ছোট-বড় চুরি ডাকাতি এইসব সংগঠিত করে বিমানে ব্যাঙ্গালোরে চলে যেত। আবার নির্দিষ্ট সময় পরে এসে চুরি ডাকাতি সংগঠিত করে।
উল্লেখ্য ইদানিং চুরি-ডাকাতির কারণে ধর্মনগরবাসীর মধ্যে একটা ত্রাস সৃষ্টি হয়েছিল এমনকি পাড়ায় পাড়ায় রাতে লোকেরা পাহারা দেওয়ার কাজ শুরু করেছিল। এখন নাজিমুদ্দিনের গ্রেফতারের পর কিছুটা চুরি ডাকাতি কমবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।
তবে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রেখে তাদের কাছ থেকে অনেক মূল্যবান তথ্য পুলিশের কাছে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন থানা থেকে তদন্তকারী দল আসছে নাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এই ঘটনার পর নাজিমুদ্দিনের কোন ধরনের ভয় ভীতি চোখে মুখে প্রদর্শিত হচ্ছে না উল্টা পুলিশকে যখন তখন দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। নাজিমুদ্দিনের চালচলন ভাব সাব অনেকটা টিভির পর্দায় উঠে আসা পাকিস্তানি বা খালিস্থানি সন্ত্রাসবাদীদের মত মনে হচ্ছে।