নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ৭ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের কারাগারে জেল খেটে অবশেষে বাড়িতে ফিরলো কমলপুরের বিষ্ণুপুর মায়াছড়ি এলাকার যুবক। তাতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এল। একসময় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক সমস্যা থাকার কারণে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের দালাল মারফত কাঁটাতারের বেড়া অবৈধভাবে পেরিয়ে বাংলাদেশে তার এক বোনের বাড়িতে পাড়ি দিয়েছিল কমলপুর বিষ্ণপুর মায়াছড়ি এলাকার এক যুবক।
বুধবার কৈলাসহর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ফিরে আসল ওই যুবক। সংবাদে প্রকাশ বিগত দুই বছর পূর্বে ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত গোপাল উড়িয়ার গোবিন্দ উড়িয়া(২৪) ওর স্ত্রীর সাথে কোন এক বিষয় নিয়ে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে এরপর সে রাগান্বিত হয়ে বিষ্ণুপুর এলাকার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দালাল মারফত অবৈধভাবে পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার এক বোনের বাড়িতে যায় সে।
উক্ত বিষয়টি তার পরিবারের লোকেরা কেউই জানতো না। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর তার কোন সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় থানা কমলপুরে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরবর্তী সময় সে বাড়িতে ফিরে আসার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের স্থানীয়রা গোবিন্দ উড়িয়াকে দেখে সন্দেহ জাগলে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় তার বাড়ি ভারতে। সে অবৈধভাবে দালাল মারফত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। পরবর্তী সময় তার কারাবাস হয়।
গোবিন্দ উড়িয়া ২৬ মাস কারাবাসে বন্দি ছিল পরবর্তী সময় বাংলাদেশের পুলিশের সহযোগিতায় আজ গোবিন্দ উড়িয়া কৈলাসহর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
গোবিন্দপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পূর্বে ভারতের বিএসএফ জওয়ান ও বাংলাদেশের পুলিশের মধ্যে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। এরপর বাংলাদেশের পুলিশ গোবিন্দ উড়িয়াকে ভারতের বিএসএফ জোয়ানদের হাতে তুলে দেয়।
পরবর্তী সময় বিএসএফ জওয়ানরা গোবিন্দ উড়িয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে কৈলাসহর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কৈলাসহর থানার পুলিশ তার পরিবারের লোকেদের হাতে তুলে দেয়। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসায় খুবই খুশি গোবিন্দ উড়িয়ার পরিবারের লোকেরা।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ তারিখ গোবিন্দ উড়িয়াকে বাংলাদেশের পুলিশ কৈলাসহর চেকপোস্টে নিয়ে আসলে আইনি জটিলতা থাকার কারনে তার পরিবারের লোকেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। যার ফলে তাকে পুনরায় বাংলাদেশের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাকে আজ নিয়ে আসা হল ভারতে।