– ‘স্বাধীনতার পর যাঁরা বছরের পর বছর ক্ষমতায় ছিল, দুৰ্ভাগ্যবশত তাঁরা দেশের পবিত্র উপাসনালয়ের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি’
– ‘পূর্বতন সরকার ভারতীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের লজ্জাজনক ধারা বজায় রেখেছিল’
– অসমে ১১,৬০০ কোটি টাকার দশটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস
– ‘মোদীর গ্যারান্টি মানে প্রতিশ্রুতি পূরণের গ্যারান্টি’
– ‘আগামীদিনে অসম দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন ভূমি হয়ে উঠবে’
– ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্ৰায় দেশজুড়ে প্ৰায় ২০ কোটি মানুষ সরাসরি অংশগ্ৰহণ করেছেন’
– ‘পরিকাঠামো উন্নয়নে ১১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার’
– ‘অদূর অভিষ্যতে দেশের মানুষ শূন্য বিলের বিনিময়ে বিদ্যুৎ পাবেন’
– ‘এবারের বাজেটে ৩ কোটি ‘লাখপতি দিদি’র লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে’
– ‘অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কৰ্মীদের আয়ুষ্মান প্রকল্পে অন্তৰ্ভুক্ত করা হবে’
– ‘ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অৰ্থনৈতিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য’
গুয়াহাটি, ৪ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নই সরকারের প্রধান অ্যাজেন্ডা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। গুয়াহাটির খানাপাড়ায় পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ময়দানে সমাবেশ মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি মোট ১১,৬০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের উদ্বোধন সহ ১০টি প্ৰকল্পের শিলান্যাস করে প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রাজ্যপাল গুলাবচাঁদ কাটারিয়া, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল ও রামেশ্বর তেলি, রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী অতুল বরা, বিটিআর-প্রধান প্রমোদ বড়োদের সঙ্গে নিয়ে প্ৰায় দু লক্ষাধিক জনতার সামনে প্রদত্ত উদাত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা কামাখ্যার দৰ্শন করতে ভক্ত-পুণ্যার্থীর পদাৰ্পণ বাড়ার পাশাপাশি অসম হবে উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের পৰ্যটনের দুয়ারমুখ। আমাদের তীৰ্থক্ষেত্র, মন্দির এবং বিশ্বাসের স্থানগুলি ভারতীয় সভ্যতার হাজার হাজার বছরের যাত্ৰার অবিস্মরণীয় প্ৰতীক। বৰ্তমান সরকারের অগ্ৰাধিকার হচ্ছে জীবনযাপনকে সহজ করে তোলা।
মূলত, প্রধানমন্ত্রী ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর নর্থ-ইস্ট রিজিওন স্কিমের ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে মা কামাখ্যা দিব্যলোক প্রকল্পের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে কথাগুলি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যাঁরা বছরের পর বছর ক্ষমতায় ছিল, দুৰ্ভাগ্যবশত তাঁরা দেশের পবিত্র উপাসনালয়গুলির গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। একাধিক তীৰ্থস্থান ভ্ৰমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্ৰধানমন্ত্ৰী আজ মা কামাখ্যা দিব্যলোক প্ৰকল্পের ধারণা এবং পরিসরের ওপর আলোকপাত করেছেন। মোদী জানান, এই প্ৰকল্প সম্পূৰ্ণ হওয়ার পর পুণ্যার্থীদের জন্য সুগম ও আরামদায়ক যাত্ৰা হবে। ভক্তকুলের আর পায়ে হেঁটে মায়ের দর্শনে যেতে হবে না। অসমকে উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের পৰ্যটনের দুয়ারমুখ করার প্রচেষ্টা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী অসম সরকার এবং মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার প্ৰশংসা করেছেন৷
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তীর্থস্থান, মন্দির, বিশ্বাসের স্থানগুলো শুধু দেখার জায়গা নয়, এগুলো আমাদের হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তাঁরা (পূর্বতন সরকার) নিজেদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের লজ্জাজনক ধারা বজায় রেখেছিল। এটা অতীতের জন্য লজ্জিত করার একটি প্রবণতা হয়ে উঠেছিল। কোনও দেশই তার অতীত ভুলে শিকড় কেটে উন্নয়ন করতে পারে না। প্ৰকৃত ইতিহাসকে অবহেলা করে কোনও দেশ উন্নতি করতে পারে না। তবে গত দশ বছরে দেশের পরিস্থিতি পাল্টেছে।’
মোদী বলেন, অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর গত ১২ দিনে প্রায় ২৪ লক্ষ পুণ্যার্থী প্রভু শ্রীরামের দর্শন লাভ করেছেন। পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন হয়েছে। অসমেও মা কামাখ্যা দর্শনে অসংখ্য পর্যটক ও পুণ্যার্থীর আগমন ঘটবে। আগামীদিনে অসম দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন ভূমি হয়ে উঠবে। আর্থিকভাবে লাভান্বিত হবেন এখানকার মানুষ। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থানগুলির উন্নয়নে কেন্দ্ৰীয় সরকার নতুন আরও কিছু প্রকল্পের সূচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোদীর গ্যারান্টি মানে প্রতিশ্রুতি পূরণের গ্যারান্টি। এবার সরকার অসমের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১১,৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছে। মোদীর সংকল্প, দিবারাত্র কাজ করে প্রতিশ্রুতি পূরণ করা।’ দরিদ্ৰ, মহিলা, যুবক-যুবতী এবং কৃষকদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন, তিনি বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্ৰা এবং সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত মানুষজনের কাছে সুবিধাগুলি নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বকে ‘মোদীর গ্যারান্টি বাহন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বলেন, বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্ৰায় দেশজুড়ে প্ৰায় ২০ কোটি মানুষ সরাসরি অংশগ্ৰহণ করেছেন। অসমের বহু সংখ্যক মানুষ এর সুবিধা পেয়েছেন।
আজকের পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্ৰকল্পগুলির জন্য অসম তথা উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের জনসাধারণকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করার পাশাপাশি গতকাল সন্ধ্যেয় তিনি এখানে আসার পর গুয়াহাটিবাসীরা তাঁকে যে উষ্ণ স্বাগত এবং লক্ষ প্রদীপ প্রজ্বলন করেছেন সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান মোদী।
প্রাসঙ্গিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আইআইটি এবং আইআইএম-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্ৰসারণের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিগত দিনে এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল বড় বড় শহরে স্থাপন করা হত। কিন্তু এখন আইআইটি, আইআইএম এবং এআইআইএম-এর একটি নেটওয়াৰ্ক দেশজুড়ে সম্প্ৰসারিত হয়েছে।
প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন, অসমে ২০১৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মাত্র ছয়টি মেডিক্যাল কলেজ ছিল। বর্তমানে ১২টি মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অসম আজ ক্যানসার চিকিৎসার একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, বৰ্তমান সরকার জনসাধারণের জীবনযাপন সহজ করার ওপর অগ্ৰাধিকার দিয়ে কাজ করছে। দরিদ্ৰ জনসাধারণের জন্য ৪ কোটি পাকা ঘর নিৰ্মাণ, টেপের জল সংযোগ, বিদ্যুৎ, উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে রান্নার গ্যাস সংযোগ, স্বচ্ছ ভারতের অধীনে শৌচাগার ইত্যাদি প্রকল্পের প্রসঙ্গও তাঁর ভাষণে টেনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বলেন, ঐতিহ্যের পাশাপাশি উন্নয়নের প্ৰতি সরকার গুরুত্ব দেওয়ায় ভারতের যুবক-যুবতীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন৷ দেশে পৰ্যটন ও তীৰ্থযাত্ৰার প্ৰতি ক্ৰমবৰ্ধমান উৎসাহ দেখে কাশী করিডোর নিৰ্মাণ সম্পূৰ্ণ হওয়ার পর বারাণসীতে ভক্তকুলের দৃষ্টিকাঁড়া আগমন ঘটছে, বলেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। তিনি বলেন, গত এক বছরে ৮.৫০ কোটি মানুষ কাশী ভ্ৰমণ করেছেন, ৫ কোটির বেশি মানুষ উজ্জয়িনীর মহাকাল ভ্ৰমণ করেছেন এবং ১৯ লক্ষের বেশি ভক্ত কেদারধাম ভ্ৰমণ করেছেন। কামাখ্যাধামেও অদূর ভবিষ্যতে অনুরূপ পুণ্যার্থীর আগমন ঘটবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তীৰ্থযাত্ৰী এবং ভক্তকুলের আগমনে রিকশা চালক, ট্যাক্সি চালক, হোটেল মালিক, দোকান, পদপথের বিক্ৰেতা সহ দরিদ্ৰ মানুষজনের আয়-উপার্জন বাড়ে। তাই এর প্ৰতি লক্ষ্য রেখে এবারের বাজেট সরকার পৰ্যটনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সামনে বিদ্যমান অসংখ্য সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেছেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। বলেন, বিগত ১০ বছরে উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলে পৰ্যটক সংখ্যা সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চল অতিশয় সুন্দর থাকলেও কয়েক বছর আগে পর্যন্ত হিংসা ও সম্পদাদির প্ৰতি পূৰ্বতন সরকারগুলির অবহেলার দরুন পৰ্যটকের সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল৷ এই অঞ্চলের দুর্বল বিমান, রেল ও পথ সংযোগের তথ্য তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে একটি জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। রাজ্যের সৰ্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য প্ৰধানমন্ত্ৰী মোদী কেন্দ্ৰ এবং রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
মোদী বলেন, সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নমূলক ব্যয় ৪ গুণ বৃদ্ধি করেছে। ২০১৪ সালের আগে এবং পরবর্তী অবস্থার তুলনা করে প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন, এই সময়কালে রেলপথ স্থাপনের দৈৰ্ঘ্য ১,৯০০ কিলোমিটারের বেশি করা হয়েছে, রেল বাজেট প্ৰায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার কিলোমিটারের বিপরীতে গত ১০ বছরে ৬,০০০ কিলোমিটার নতুন জাতীয় সড়ক নিৰ্মাণ করা হয়েছে৷ আজ উদ্বোধিত সড়ক প্ৰকল্পগুলির প্রসঙ্গে প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন, এর মাধ্যমে ইটানগরের (অরুণাচল প্রদেশ) সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের বাজেটে তাঁর প্রদত্ত প্ৰতিশ্ৰুতি প্ৰতিফলিত হয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছে৷ সঙ্গে তিনি বলেন, পৰিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এ ধরনের ব্যয়ে অধিক কৰ্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নয়নে গতি আনবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগের গত ১০ বছরে অসমের পরিকাঠামো উন্নয়নে বাজেটে মোট ১২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।
তাঁর আমলে বিগত ১০ বছরে প্ৰতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর সরকার কতটা গুরুত্ব দিয়েছে সে তথ্যও আজ প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ বলেন, নিকট অভিষ্যতে দেশের মানুষ শূন্য বিলের বিনিময়ে বিদ্যুৎ পাবেন। এজন্য এবারের বাজেটে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বাজেটে বিদ্যুতের বিল শূন্যে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। সরকার দেশের এক কোটি পরিবারকে সৌর ছাদ স্থাপনের জন্য সহায়তা দেবে। এর দ্বারা কেবল শূন্য বিল নয়, সাধারণ পরিবারবর্গ ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে উপাৰ্জন করতে সক্ষম হবেন, যোগ করেন তিনি।
দেশে ২ কোটি ‘লাখপতি দিদি’ গড়ার গ্যারান্টির প্ৰতি দৃষ্টি আকৰ্ষণ করে প্ৰধানমন্ত্ৰী মোদী জানান, গত বছর এই সংখ্যা ১ কোটি হয়ছিল। এবারের বাজেটে ৩ কোটি ‘লাখপতি দিদি’র লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে। এর বলে অসমেরও লক্ষ লক্ষ মহিলা উপকৃত হবেন, বলেন তিনি। আত্মসহায়ক গোটগুলির সঙ্গে জড়িত সকল মহিলার জন্য নতুন সুযোগ এবং অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কৰ্মীদের আয়ুষ্মান প্রকল্পে অন্তৰ্ভুক্ত করা হবে বলেও আজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷
প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন, উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের ‘মোদী গ্যারান্টি’র ওপর বিশ্বাস আছে। এককালে অশান্ত এবং সহিংসতা জর্জর অসমের প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্ৰতিষ্ঠা করার পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য সীমা বিবাদের সমাধান করা হচ্ছে। বলেন, এই অঞ্চলে ১০টির বেশি বৃহৎ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত কয়েক বছর থেকে উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের হাজার হাজার যুবক হিংসা পথ ছেড়ে উন্নয়নে পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে অসমের ৭ হাজারের বেশি যুবক অস্ত্ৰশস্ত্ৰ ছেড়ে দেশের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু জেলা থেকে আফসপা প্ৰত্যাহারের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, যে সব অঞ্চল হিংসায় ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে, সেই সব অঞ্চলে সরকারের সহযোগিতায় জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।
লক্ষ্য স্থাপনের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে পূৰ্ববর্তী সরকারগুলির নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, উদ্দেশ্যের অভাব এবং কঠোর পরিশ্ৰম করতে ব্যৰ্থ হয়েছে পূর্বতন সরকারগুলি। উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের বিকাশ ঘটিয়ে উত্তর এবং পূর্ব এশিয়ায় সংযোগ সম্প্ৰসারিত হবে বলেও তিনি আশা প্ৰকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অৰ্থনৈতিক সহযোগিতার অধীনে রাজ্যের অসংখ্য সড়ক উন্নীতকরণের মাধ্যমে উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলকে বাণিজ্যিক কেন্দ্ৰে রূপান্তরিত করা হবে। এই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা হবে, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। তিনি উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের যুবক-যুবতীরা পূর্ব এশিয়ার মতো নিজের অঞ্চলের উন্নয়নের সাক্ষী হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্ৰশংসা করেন।
প্ৰধানমন্ত্ৰী আরও বলেন, ভারত এবং ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধ জীবনের লক্ষ্যে আজ চলমান সব উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। বলেন, ‘আমার লক্ষ্য, ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অৰ্থনৈতিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আমার লক্ষ্য, ২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়া।’ দেশের উন্নয়নে অসম তথা উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের অপরিসীম অবদানের বর্ণনা করেছেন প্ৰধানমন্ত্ৰী।
আজ সভামঞ্চে অসমিয়া ভাষায় অসমবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণ শুরু করেছেন। দু লক্ষাধিক জনসমুদ্রের বুকচিরে পুষ্পসজ্জিত খোলা জিপে হাত নেড়ে, করজোড়ে জনতাকে অভিবাদন জানাতে জানাতে খানাপাড়ায় পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ময়দানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা।
আজ ভার্চুয়ালি যে প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করেছেন সেগুলি যথাক্রমে ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে মা কামাখ্যা দিব্যলোক প্রকল্প; ৩,২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সব সুবিধাযুক্ত অত্যাধুনিক গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আপগ্রেডেশন; ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী রাস্তা প্রশস্তকরণ প্ৰকল্প; অসম মালা ২.০-এর অধীনে ৩,৪৪৪ কোটি টাকায় ৪৩টি রাস্তার আপগ্রেডেশন এবং ৩৮টি সেতু নির্মাণ প্ৰকল্প; ৮৩১ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে নেহরু স্টেডিয়ামকে ফিফা স্ট্যান্ডার্ড ফুটবল স্টেডিয়ামে আপগ্রেডেশন; ক্রীড়া সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চন্দ্রপুর স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প; ৫৭৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে রামকৃষ্ণনগরে করিমগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি ইউনিটি মল ডেভেলপমেন্ট প্ৰকল্পের শিলান্যাস।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন বিশ্বনাথ চারিয়ালি থেকে গহপুর পর্যন্ত ১,৪৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ চারলেন সড়ক এবং দোলাবাড়ি থেকে জামুগুড়ি পর্যন্ত ৫৯২ কোটি টাকায় নিৰ্মিত চার লেন সড়ক।