কলকাতা, ১৮ জানুয়ারি (হি.স.): সরকারি কর্মীদের কাজে ফাঁকি কোনওভাবেই বরদাস্ত নয়, স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই বার্তার পরেও অনমনীয় বিভিন্ন বিরোধী সরকারি কর্মী সংগঠন।
সরকারি কর্মচারি পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে সরকারি কর্মীদের উপর বঞ্চনা নেমে আসছে। কথায় কথায় বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। নিজেদের বঞ্চনা আড়াল করার জন্যই এই ধরনের বার্তা। এগুলো ভয় দেখানো। দুর্নীতির বিচার করবে কে? যাঁরা দুর্নীতির বিচার করবেন তাঁরাই তো দুর্নীতিগ্রস্ত। এখন আর কর্মীদের ঘুরে বেড়ানোর কোনও জায়গা নেই। কারণ দফতরে দফতরে প্রচুর ফাঁকা পদ। ফলে সরকারি কর্মীদের উপর প্রচুর চাপ থাকে। সেক্ষেত্রে কাজে ফাঁকি দেওয়ার জায়গা থাকছে না। আজ হোক বা কাল ডিএ মামলা সরকারের বিরুদ্ধে যাবেই। আর তাই সরকার একটা আক্রমণ নামাতে চাইছে।’
অন্যদিকে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা যে ধর্মঘট ডেকেছি তাতে রাজ্য অচল হতে চলেছে তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন। আর সেই জন্য এই বার্তা।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা প্রসঙ্গে অপর ডিএ মামলাকারী সরকারি কর্মীদের সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের তরফে শ্যামল মিত্র বলেন, ‘ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও কর্মীপক্ষের জয় হবে। কলকাতা হাইকোর্টের রায় বজায় থাকবে। কর্মীরা বিভিন্ন ফ্রন্টে ডিএর দাবিতে সরব হচ্ছে। কর্মীদের ক্ষোভ আর সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তাই এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে যাতে কর্মীরা কোনও আন্দোলনে যোগ না দেয় বা কর্মবিরতির মতো উদ্যোগে যোগ না দেন।’
প্রসঙ্গত, কোনওভাবে যদি গাফিলতির বিষয়টি নজরে আসে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসার বা কর্মীকে ‘বরখাস্ত’ করার পথেও হাঁটতে দ্বিধা করবে না সরকার, তা বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এক্ষেত্রে সামনে এসেছে সেকশন ৫৬জে-র কথাও। এই ধারা অনুযায়ী, কোনও সরকারি মূল্যায়ন মোতাবেক যদি সরকারি কর্মীদের কাজ সন্তোষজনক না হয় সেক্ষেত্রে তাঁকে স্বেচ্ছাবসরে যেতে বলা সম্ভব হবে।

