তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত বুদবুদের সন্ধিপুর, আহত ১০

দুর্গাপুর, ১৭ জানুয়ারি (হি. স.) : আর কয়েকমাস পরই লোকসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দফায় দফায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বুদবুদের সন্ধিপুর গ্রাম। দুই গোষ্ঠীর দোকান বাড়ি ভাঙচুর। মাথা ফাটল বেশ কয়েকজনের। আহত হয়েছে কমপক্ষের ১০ জন। আহতরা পুরষা ব্লক হাসপাতাল ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বসল পুলিশ পিকেট। বুধবারও এলাকা থমথমে রয়েছে।

ঘটনায় জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বুদবুদের সন্ধিপুর গ্রামে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায় ও বিধায়ক নেপাল ঘোরুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মদ্যপদের উৎশৃঙ্খল আচরনে অতিষ্ট এলাকাবাসী। সোমবার ছিল মকরসংক্রান্তি। এদিন সন্ধিপুর ক্যানেলপাড়ে বসে কয়েকজন মদ্যপান করছিল। অভিযোগ, কয়েকজন মদ্যপ উৎশৃঙ্খল আচরন করছিল। বিষয়টি নজরে পড়তেই পুলিশের টহলদারি গাড়ির কর্তব্যরত পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সেখান থেকেই ঘটনার আক্রোশের সূত্রপাত।

ঘটনায় আহত মহঃ মুফিজুর রহমান বলেন,”আমার ভাই সিভিক ভলেন্টিয়ার। ওইদিন মদ্যপদের তাড়িয়ে দেওয়ার সময় ডিউটেতে ছিল। সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তৃণমূল কর্মী কালিপদ ওরফে কেলে বাগদী, পঞ্চায়েত সদস্য তপন বাগদী দলবল নিয়ে বাড়িতে ভাইকে মরধর করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। বিকালে গ্রামের মোড়ে চা’ খাওয়ার সময় বাবাকে মারধর করে। পরদিন অর্থাৎ আজ আমাকে গ্রামের এক চা’দোকানে পেয়ে বেধড়ক মারধর করে। সেখানে আরও অনেকজনকে লাঠি, রড দিয়ে মারধর করে কেলে বাগদী, তপন বাগদী, আল্লারাখার দলবল। আমাদের বেশ কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়।” খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে পুরষা ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। ঘটনায় দু পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। জানা গেছে, কেলে বাগদী, আল্লারাখা, তপন বাগদী জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী।

এদিকে ঘটনার খবর চাউর হতেই তৃণমূলের অপর গোষ্ঠী বিধায়ক অনুগামীরা পাল্টা লাঠি রড নিয়ে এলাকায় তান্ডব শুরু করে। তপন বাগদী, কেলে বাগদীকে মারধর ও তার বাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। কালিপদ বাগদীর বউমা পল্লবী বাগদী জানান,” আমরা তৃণমূল করি। সকালে বিধায়ক গোষ্ঠীর লোকজন শ্বশুরকে মারধর করে। পুলিশের সামনে ইট, লাঠি দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ ভাঙচুর না আটকে দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ী ভাঙা করিয়েছে। আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি।” ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এসিপি সুমন জয়শওয়াল। তিনি বলেন,” পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” অন্যদিকে তৃণমূলের গলসী-১ নং ব্লক সভাপতি জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন,” কোনরকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়। গ্রাম বিবাদ। সেটাকে কেউ সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। অযথা রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ গোটা বিষয়টি দেখছে।”