আড়াই মাসের মেয়েকে নদীতে ফেলে দিল বাবা, আটক দম্পতি

পূর্ব মেদিনীপুর, ৫ জানুয়ারি (হি.স.) : আড়াই মাসের মেয়েকে নদীর জলে ফেলে দিল বাবা ৷ ঘটনা জানাজানি হতেই পুলিশ আটক করেছে ওই শিশুর বাবা ও মাকে৷ ঘটনাটি ঘাটাল থানার অন্তর্গত মনসুকা দুই গ্রামপঞ্চায়েতে রামচক গ্রামের৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির বয়স মাত্র আড়াই মাস ৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার খোঁজ মিলছিল না। পরে জানা যায় তাকে নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর এমন কাজ করেছে তার বাবা! পুলিশের জেরায় সে কথা স্বীকারও করে অভিযুক্ত। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় নদীতে তল্লাশি চালানো যায়নি ৷ শুক্রবার সকালে দেহ উদ্ধারের চেষ্টা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। দুপুর পর্যন্ত দেহ উদ্ধারের খবর মেলেনি।

পুলিশের অনুমান, গত মঙ্গলবার রামচক গ্রামের বাসিন্দা খোকন হাজরা তাঁর তৃতীয় কন্যাসন্তানকে ঝুমি নদীর জলে ফেলে দিয়ে আসে ৷ এরপর বৃহস্পতিবার সকালে আইসিডিএস কর্মীরা খোকন হাজরার বাড়িতে ওই শিশুকে দেখতে গিয়ে জানতে পারেন ওই শিশুটি আর নেই ৷ তৎক্ষণাৎ আইসিডিএস কর্মীরা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধানকে বিষয়টি জানান ৷

তারপরেই ওই এলাকার ভিলেজ পুলিশ ঘাটাল থানায় খবর দেয়৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘাটাল থানার ওসি ওই এলাকায় পৌঁছন। এরই মধ্যে সন্তানকে নদীর জলে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়। নদীর যে জায়গায় ওই শিশুকে ফেলা হয়েছে, সেখানে খোকন হাজরাকে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় খুব বেশিক্ষণ খোঁজ চালানো সম্ভব হয়নি৷ পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে ডুবুরি নামিয়ে ওই শিশুর সন্ধান চালায় পুলিশ৷ পরে সব দিক খতিয়ে দেখে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ওই শিশুর বাবা ও মাকে আটক করে৷

খোকন পেশায় রাজমিস্ত্রি৷ খোকন ও তাঁর স্ত্রী টুপাই হাজরার তৃতীয় সন্তান ছিল এই শিশুকন্যা৷ ঘটনাটি জানাজানি হতেই নিন্দার ঝড় ওই এলাকায়৷ তবে খোকন কন্যা সন্তানকে নদীর জলে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছ বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷ সে পুলিশকে আরও জানিয়েছে, ওই শিশুকন্যা কিছু খেতে পারত না৷ তাই সে নিজেই শিশুটিকে নদীতে বাচ্চাকে ফেলে দিয়ে এসেছে৷ তবে এই কাজটি সে একাই করেছে৷