হাওড়া, ৪ জানুয়ারি, (হি.স.): বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বাগনানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হয়। বেপরোয়া লরির ধাক্কায় প্রাণ যায় এক সাব-ইন্সপেক্টর ও হোমগার্ডের। গুরুতর আহত আরও ৩ পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে বাগনানের বরুণদা মুম্বই রোডে। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যান বাগনানে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোলাঘাটের দিক থেকে বাগনানের দিকে যাওয়ার সময় মুম্বই রোডে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশগাড়িতে ধাক্কা মারে একটি লরি। সেসময় মুম্বই রোডে ডিউটিতে ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর সুজয় দাস এবং হোমগার্ড পলাশ মণ্ডল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁদের। আরও দুই পুলিশকর্মী ও পুলিশ গাড়ির চালক গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে বাগনান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা সুজয় এবং পলাশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরও দুই পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে কলকাতায়।
সুজয় দাস (সাব ইন্সপেক্টর) এবং পলাশ সামন্ত (হোমগার্ড) ছাড়াও এদিন মুম্বই রোডে কর্তব্যরত ছিলেন সুকদেব বিশ্বাস (কনস্টেবল,) ও অলোক বর (কনস্টেবল)। মৃত সুজয় দাসের বয়স ৪৫। পলাশ সামন্তর বয়স ৩০। সাব ইন্সপেক্টর সুজয়ের বাড়ি হাওড়ার বেলুড়ে। পলাশের বাড়ি বাগনানের কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দীপমালিতা এলাকায়। বর্তমানে তিনি বাগনানে থাকেন। তাঁর একটি পাঁচ বছরের মেয়েও রয়েছে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, পিছন থেকে এসে লরিটি ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারে পুলিশ গাড়িতে। গাড়িটির ছাদ উড়ে যায়। এর পর গাড়িটিকে দুমড়ে-মুষড়ে দিয়ে চলে যায় ঘাতক লরিটি। দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি ৪ জনকে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতাল পরে উলুবেড়িয়া এবং সেখান থেকে কলকাতা স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।

