মথুরা, ১ জানুয়ারি (হি.স.) : ঋষি ও সাধুরা মানবজাতিকে সংস্কৃতিবান করতে কঠিন যাত্রা করেছেন। সোমবার এই মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি সোমবার বৃন্দাবনে সম্ভিদ গুরুকুলম গার্লস সৈনিক স্কুলের উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে এদিন একথা বলেন রাজনাথ সিং। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বাবা রামদেব এবং সাধ্বী ঋতম্ভরা।
এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় রাজনাথ সিং বলেন, ঋষি ও সাধুরা মানবজাতিকে সংস্কৃতিবান করতে কঠিন যাত্রা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, যখন এরোপ্লেন, জাহাজ, ট্রেন, বাস, গাড়ি, এমনকি পরিবহনের সাধারণ মাধ্যমও ছিল না তখন সাধুরা অতি কঠিন দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেছেন। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে কোন সুবিধা তখন পাওয়া যেত না। কিছু জায়গায় ভাষা ছিল ভিন্ন, কিছু জায়গায় সমাজ ছিল বর্বর ও হিংস্র, এমন অনেক সমাজও ইতিহাসে পাওয়া গেছে যেখানে সাধুদের অনেক মানুষ পছন্দ করেনি। যখন এত সমস্যা ছিল, তখন আমাদের সাধু-ঋষিদের, কে এমন অদম্য ও দুর্গম যাত্রা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল সেটা সত্যিই ভাববার বিষয়।
রাজনাথ সিং বলেন, সেই অনুপ্রেরণার পিছনে ছিল মানবজাতির প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের উন্নত ও সংস্কৃতিবান করার অনুভূতি। এই অনুভূতি আমাদের সাধু-ঋষিদের অনুপ্রাণিত করেছিল। যার কারণে সেই কঠিন সময়েও তাঁরা বিশ্বকে সভ্য করার জন্য পায়ে হেঁটে সমগ্র দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। তিনি বলেন, যখন ভারত ছাড়া পৃথিবীর কোথাও কোনও সভ্যতা ও জ্ঞান ছিল না, সেসময় ঋষিরা আমাদের পূর্বপুরুষদের আদেশ দিয়ে বলেছিলেন- কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্, অর্থাৎ যাও, বিশ্বকে মহৎ কর, উন্নত কর, সংস্কৃতিবান কর। হৃদয় জয় করার এই সংকল্পই আমাদের সংস্কৃতিকে বিশেষ করে তুলেছে। এই সংকল্পকে উপলব্ধি করার জন্য আমাদের সাধু ও ঋষিদের ভূমিকা ভোলা যায় না।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সরকার যখন সৈনিক স্কুলে মেয়েদের ভর্তির অনুমোদন দিয়েছিল সেই সময়টি ছিল মহিলাদের উন্নতির অন্যতম সোনালী মুহূর্ত। তিনি বলেন, এদেশের নারী শক্তিরও দেশ রক্ষার যতটুকু অধিকার আছে পুরুষদেরও ততটাই আছে। আজ এখানে বালিকা সৈনিক স্কুল চালু হচ্ছে। এই গার্লস সৈনিক স্কুলটি আশেপাশের এলাকায় সেনাবাহিনীতে যোগদানকারী আগ্রহী মেয়েদের অবশ্যই অনুপ্রাণিত করবে।

