দুর্গাপুরে রঘুনাথ মুর্মু স্কুলে সাপের কামড়ে আবাসিক ছাত্রের মৃত্যু, উদাসীনতার অভিযোগে বিক্ষোভ

দুর্গাপুর, ১১ডিসেম্বর (হি. স.) স্কুল থেকে হোস্টেলে যাওয়ার পথে সাপের কামড়ে আদিবাসী ছাত্রের মৃত্যু। সোমবার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের ফুলঝোড় পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদিবাসী আবাসিক বিদ্যালয়ে। পরিকাঠামো মুখ থুবড়ে সহ কর্তৃপক্ষের গাফিলাতির অভিযোগে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ আদিবাসী অবিভাবকদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ। প্রশ্ন উঠেছে আদিবাসী সমাজের শিক্ষা ব্যাবস্থার উন্নয়নে।

ঘটনায় জানা গেছে, মৃত ছাত্রের নাম সিদ্ধান্ত মান্ডি (১৩), কুলটির সিতারামপুরের বাসিন্দা। দুর্গাপুরের ফুলঝোড় পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদিবাসী আবাসিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র। সম্প্রতি স্কুলের তৃতীয় সাবমিটের পরীক্ষা চলছিল। গত ১ ডিসেম্বর পরীক্ষার পর হোস্টেলে ফেরার পথে তাকে সাপে কামড়ায়। ঘটনার পর সেখানে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সহপাটির দ্রুত স্কুলে শিক্ষকশিক্ষিকাদের জানায়। তারপর তাকে সেখান থেকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারিরিক অবনতি হওয়ায় পরদিনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন গত ৬ ডিসেম্বর ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়। এদিকে ঘটনার পর সোমবার স্কুলের পরিকাঠামোর অভাব সহ গাফিলাতির অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু করে অবিভাবকরা। স্কুলে তালা ঝুলিয়ে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। তাদের অভিযোগ,” বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য সময় মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হয়নি। তার ফলে ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০০৫ সালে স্কুলটি তৈরী হয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে স্কুলের শিক্ষা ব্যাবস্থা। প্রায় ১৫ একর জমির ওপর স্কুল ও আবাসিক হোস্টেল রয়েছে।
অনগ্রসর শ্রেনীকল্যান দফতরের অনুদানে হোস্টেল চলে। স্কুলটিতে ২৮৭ জন পড়ুয়া রয়েছে। ১১ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ও ২ জন অশিক্ষক কর্মী রয়েছে। এদিন বিক্ষোভরত ময়না হেমব্রম জানান,” স্কুল চত্ত্বর ও হোস্টেলের পরিকাঠামো মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। নোংরা ঝোঁপ জঞ্জালে ভর্তি। হোস্টল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। খাবারের মান খুবই খারাপ। স্কুল থেকে হোস্টেল যাওয়ার রাস্তা আগাছায় পরিপূর্ণ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে ওই এলাকায়।” তিনি আরও বলেন,” ছেলে মেয়েদের ভাল শিক্ষার জন্য অনেক আশা করে এই স্কুলে ভর্তি করা হয়। কিন্তু, এমনই দুরাবস্থা, খুবই বেদনাদায়ক।

আদিবাসী বলেই কি এভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়? আদিবাসী বলেই কি সর্পাঘাতে আক্রান্ত ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে এত গাফিলাতি? এর উত্তর চাই।” আদিবাসী দিশম গাঁওতার রাজ্য পর্যবেক্ষক বুবুন মান্ডি জানান,” পরিকাঠামো নেই। আদিবাসী শিক্ষা ও উন্নয়ন তহবিলে কোটি কোটি টাকা অনুদান বরাদ্দ হয়। অথচ নরকের মধ্যে ছেলেমেয়েদের রাখা হয়। স্কুল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেমন চরম গাফিলাতি হয়েছে। তেমনই বর্ধমানে নিয়ে যাওয়ার পর মহকুমা হাসপাতালের চিকাৎসার রিপোর্ট দিতে টালবাহানা শুরু করে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় অনেক দেরি হয়েছে। তাই এর তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।”

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শর্বানী সেন শর্মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,” খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ঘটনার সময় গাড়ী চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কেউ ছিল না। নিজের গাড়ী থাকলেও, আমি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। তবুও দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতালে পঠানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন,” স্কুলে ও হোস্টেলে কোন সাফাইকর্মী নেই। সাফাইয়ের জন্য কোন তহবিল নেই। হোস্টেলে মনিটারিংয়ের কোন সুপার নেই। গোটা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে।” প্রশ্ন, আদিবাসী উন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই যখন তৎপর। তখন, দুর্গাপুরের এই আবাসিক আদিবাসী স্কুলের বেহাল দশা কেন? যদিও এদিন খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। আসেন মহকুমা প্রশাসনের তরফে দুই আধিকারিক। প্রশাসনিক আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেয় অবিভাবকরা।