নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন দাম রুখতে মহকুমা প্রশাসনের অভিযান তেলিয়ামুড়ার বিভিন্ন বাজারে

নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১ নভেম্বর : তেলিয়ামুড়া মহকুমার বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। বুধবার মহকুমা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল তেলিয়ামুড়া বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায়। একইসাথে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের বিরুদ্ধেও এদিন অভিযান চালানো হয়েছে।
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নড়েচড়ে বসলো তেলিয়ামুড়া খাদ্য দপ্তর এবং প্রশাসন। বুধবার খাদ্য দপ্তরের এবং প্রশাসনের একটি টিম তেলিয়ামুড়া সহ কল্যাণপুর বাজারে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। তারা কল্যাণপুরের বিভিন্ন পেঁয়াজ এর পাইকারী দোকানে গিয়ে দেখতে পান সাদা পেঁয়াজ  পাইকারী বিক্রি হচ্ছে কিলো প্রতি ৫৫ টাকা দরে। আর লাল পেঁয়াজ টা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কিলো দরে।

 খাদ্য দপ্তরের ওই টিমে ছিলেন তেলিয়ামুড়া মহকুমা ফুড কন্ট্রোলার শুভঙ্কর চৌধুরী, চিফ ফুড ইন্সপেক্টর ভুট্টু দেববর্মা, বিজুবন দেববর্মা, এবং প্রশাসনের তরফে ডেপুটি কালেক্টর অমিত রায় চৌধুরী।

  অমিত রায় চৌধুরী জানান এটা কোন অভিযান তেমন নয়। এটা মূলত বাজারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ। পেঁয়াজের পাইকারী ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে ৫/৬ টাকার বেশী লাভে যেন এই মুহূর্তে পেঁয়াজ বিক্রি না করে। পাশাপাশি বেশ কিছু পাইকারী দোকানে ওই সরকারী টিম দেখতে পান ডিসপ্লে বোর্ড নেই, নেই ক্যাশ মেমো, নেই স্টক রেজিস্টার এর মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয় এইসব দোকানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে  প্রশাসন পাইকারী পেঁয়াজের দোকানে টহলদাড়ি চালালেও খুচরো ব্যবসায়ীদের মূল্য কে নিয়ন্ত্রণ করবে। কারণ অনেক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফুটপাথে বসেও পেঁয়াজ বিক্রি করেন অন্যান্য সব্জি বা সামগ্রীর সাথে। এদের ধরার তো কোন আইন নেই। যত দূর খবর কল্যাণপুরে পেঁয়াজ খুচরো বিক্রি হচ্ছে ৬৫/৭০ টাকা দরে।

 আসলে যখন প্রশাসনের টিম অভিযানে যায় তখন সব খুচরো পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরাই দাম কমিয়ে বলেন। কোন ক্রেতার থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে প্রশাসনের ও কিছুই করার থাকে না। বুধবার খাদ্য দপ্তর ও প্রশাসন এর টিমের সাথে কল্যাণপুর থানার পুলিশ ও ছিলো। এদিকে এই বিশেষ টিম বিভিন্ন দোকানে হানা দিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কতৃক নিষিদ্ধ এক কালীন ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ও বাজেয়াপ্ত করে। মোট ২৩ কিলো এই ধরণের প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তিন জন ব্যবসায়ীকে মোট দুই হাজার টাকা জরিমানা ও করা হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এর স্পষ্ট নির্দেশিকা আছে যে এই ব্যাগ কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এই ব্যাগ পোড়ালে বায়ু দূষণ, মাটিতে ফেললে ভূমি দূষণ, এবং জলে ফেললে জল দূষণ অবশ্যম্ভাবী।