বড় মাপের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র, দাবি শুভেন্দু

কলকাতা, ২৭ অক্টোবর (হি.স.): কেবল বনমন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নন, তাঁর স্ত্রী-কন্যা ও ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি বড় মাপের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। শুক্রবার মুরলিধর সেন লেনের বিজেপি দলীয় দফতরে এ ব্যাপারে বিশদ সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুবাবু বলেন, ভারতে কোনও রাজ্যে পিডিএস-এ (গণবন্টন অর্থাৎ রেশন ব্যবস্থায়) এত বড় দুর্নীতি হয়নি। চাল-গম-চিনির যে অবৈধ চোরাকারবার চলছিল, সেটা অনেক দিনের। এ কারণে নির্দিষ্ট অভিযোগের এ সুব্বাইয়া নামে একজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে নিয়োগ করেছিল ‘হোমপার’ বিভাগ। তাঁর অবসরের পর কেন্দ্রীয় সরকার প্রভিডেন্ড ফাণ্ড, গ্র্যাচুইটির টাকা আটকে দেয়। আরও একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ইডি-র কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটার কিছু হয়নি। এইসব বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে দলের কাজে ব্যবহৃত হত।

শুভেন্দুবাবু বলেন, মানি লণ্ডারিংয়ের মত অর্থপাচারের ক্ষেত্রেও জড়িত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় ও তাঁর সঙ্গীরা। এই চক্রের সঙ্গে বাকিবুর প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। ইতিমধ্যে কলকাতা ও বেঙ্গালুরুতে বাকিবুরের দুটি হোটেলের খোঁজ মিলেছে। চারটি আটাকল প্রত্যক্ষ এবং আরও সাতটি আটাকল পরোক্ষভাবে এইসব কারচুপির সঙ্গে যুক্ত দাবি কড়ে সেগুলোর নামের তালিকাও দেন শুভেন্দুবাবু।

নোটবন্দীর সময় জ্যোতিপ্রিয়র কন্যা প্রিয়দর্শিনীর ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট অ্যাকাউণ্টে ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪৯৩ টাকা জমা পড়ে। ওই অ্যাকাউণ্ট নম্বরের (০৩১৭০১০১৫৯১২৮) উল্লেখ করে শুভেন্দুবাবু অভিযোগ করেন, জেরার মুখে ওই টাকার উৎস হিসাবে প্রিয়দর্শিনী যুক্তি দেখান প্রাইভেট টিউশন করে টাকাটা জমিয়েছেন।

ওই অর্থবর্সে তাঁর আয় ছিল ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩৬। প্রায় একই সময় জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রী মনিদীপা মল্লিকের অ্যাকাউণ্টে জমা পড়ে ৪ কোটি ২৯ লক্ষ ২০ হাজার ২১১ টাকা। এই দুটো মিলিয়ে ৮ কোটি টাকার কাছাকাছি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কলকাতা হাইকোর্টের ব্রিফলেস আইনজীবী ছিলেন। কোনও কালে সওয়াল করেছেন কিনা, জানা নেই। বিভিন্ন জায়গায় তাঁর এবং পরিবারের স্থাবর, অস্থাবর এত সম্পত্তি কী করে হয়?
শুভেন্দুবাবু বলেন, তদন্ত যদি ঠিকমত এগোয় তাহলে মমতা ব্যানার্জির তথাকথিত প্রিয় মন্ত্রীর আরও বেশি সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যাবে। এই সঙ্গে আব্দুল খালেক, মনোহর গুপ্তা, মহিন্দর আগরওয়াল, বিমল ডালমিয়া, অমিত কুণ্ডুর মত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা এজেন্ট এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রের সুবিধার্থে অচিন্ত্য পতি নামে এক ডব্লুবিসিএস