বাসন্তীতে তৃণমূল নেতার গলায় কোপ, বাড়িতে আগুন অভিযুক্তের

বাসন্তী, ৯ আগস্ট(হি.স.) : পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের সময় আচমকা এক তৃণমূল নেতার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় শ্রীদাম মণ্ডল নামে ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আচমকা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় বাসন্তীতে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ও তৃণমূল কর্মীরা অভিযুক্ত রোহিত খানের বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে বাসন্তী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এসডিপিও ক্যানিং দিবাকর দাসের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়, পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে একদিকে বাসন্তী ব্লকের অন্তর্গত বাসন্তী গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া চলছিল পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। এবারও পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে শ্রীদামের স্ত্রী পারুল নির্বাচিত হওয়ার খবর বাইরে আসতেই তৃণমূল কর্মীরা আবির খেলায় মেতে ওঠেন। শ্রীদামও আবির খেলছিলেন। ঠিক তখন পঞ্চায়েতের সামনেই তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে রোহিত। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে শ্রীদাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। সাথে সাথেই উত্তেজিত জনতা ঘটনায় অভিযুক্তর বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে সেখানে আগুন লাগিয়ে দেয়।

বাসন্তী ব্লক তৃণমূলের কনভেনর আব্দুল মান্নান গাজী বলেন, “পরিকল্পনা করেই এই খুনের চেষ্টা করা হয়েছে শ্রীদামকে। দুষ্কৃতিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। পুলিশকে বলেছি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারা আমাদের এই নেতাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল তা খুঁজে বের করতে হবে।”

যদিও এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে বলেই দাবি করেছে বিজেপি। বাসন্তী ব্লকের বিজেপি নেতা তথা বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সর্দার বলেন, “ তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দল বাসন্তীতে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। কাঁদের হাতে পঞ্চায়েতের দখল থাকবে, কারা তোলাবাজি করবে এ নিয়ে গণ্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের অনুমান।”

তবে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সওকাত মোল্লা দাবি করেছেন ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “ এর পিছনে রাজনৈতিক কোন কারণ নেই। ব্যক্তিগত রাগ, পুরানো শত্রুতার কারনেই এই হামলা হয়েছে। পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।” এসডিপিও বলেন, “ বাসন্তীতে শ্রীদাম মণ্ডলের উপর রোহিত খান নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। কোন বচসার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রোহিত ও তার পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ তদন্ত করছে। দ্রুত দোষীকে গ্রেফতার করা হবে এবং সঠিক কি কারনে এই হামলা সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *