নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (হি.স.): ভারত ও শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা স্বার্থ এবং উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জোর দিয়ে এক কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “ভারতের ”প্রতিবেশী সর্বাগ্রে” নীতি এবং ”সাগর” উভয় ক্ষেত্রেই শ্রীলঙ্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। আজ আমরা দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে নিজেদের মতামত ভাগ করেছি।”
শুক্রবার দিল্লিতে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে। মোদী ও রনিলের উপস্থিতিতে শুক্রবার ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে কয়েকটি চুক্তি বিনিময় হয়েছে। এই চুক্তিগুলির মধ্যে একটি হল শ্রীলঙ্কায় ইউপিআই স্বীকৃতির জন্য নেটওয়ার্ক-টু-নেটওয়ার্ক চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন বলেছেন, “শ্রীলঙ্কায় ইউপিআই চালু করার জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তি, ফিনটেক সংযোগ বাড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে এবং তাঁর প্রতিনিধি দলকে ভারতে স্বাগত জানাই। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর এক বছর পূর্ণ হওয়ায় আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই। শ্রীলঙ্কার জনগণ গত বছর অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল কিন্তু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো আমরা সংকটের সময়ে শ্রীলঙ্কার জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেছেন, “আমরা ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত। বাণিজ্য ও মানুষের ভ্রমণ বৃদ্ধির জন্য, আমরা তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনাম এবং শ্রীলঙ্কার কাঙ্কেসান্তুরাইয়ের মধ্যে যাত্রী ফেরি পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, “আজ আমরা মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা একমত যে আমাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমরা শ্রীলঙ্কায় পুনর্গঠন ও পুনর্মিলনের কথাও বলেছি। রাষ্ট্রপতি বিক্রমাসিংহে আমাকে তার অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির কথা বলেছিলেন। আমরা আশা করি শ্রীলঙ্কা সরকার তামিলদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এবং সমতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আশা করি শ্রীলঙ্কা ১৩ তম সংশোধনী এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।



















