বেঙ্গালুরু, ১৮ জুলাই (হি.স.): কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ ২৬টি বিজেপি-বিরোধী দলের দ্বিতীয় বৈঠক মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে সম্পন্ন হল। বিরোধীদের এই বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেস ক্ষমতা বা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লালায়িত নয়। তাঁর মতে, ক্ষমতার কোনও লোভ নেই কংগ্রেসের। বরং সংবিধান, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র এবং সামাজিক ন্যায়কে রক্ষা করাই দেশের প্রধান বিরোধী দলের লক্ষ্য বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই বৈঠককে ফলপ্রসু বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বলেছেন, “খুবই ভাল ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে…আজ আমরা যা আলোচনা করেছি, এর পরের ফলাফল হয়তো এদেশের মানুষের জন্য ভালো হতে পারে।” কেজরিওয়াল বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী গত দশ বছর ধরে দেশ শাসন করার সুযোগ পেয়েছেন এবং তিনি দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। তিনি মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছেন, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, এত মুদ্রাস্ফীতি, এত বেকারত্ব সব ক্ষেত্রে। আমি মনে করি, এখনই সঠিক সময়, এই দেশের মানুষ তাঁর থেকে মুক্তি চায়, তাই সবাইকে একত্রিত হতে হবে।”
মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বেঙ্গালুরুর হোটেলে শুরু হয় বিজেপি বিরোধী দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। একে-একে বৈঠকে যোগ দেন ২৬টি বিজেপি-বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ। যোগ দেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি, আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব, ডিএমকে প্রধান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন প্রমুখ। বিরোধীদের বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “আমরা এটা জানি যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, আমাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে এই পার্থক্য আদর্শগত নয়। এই পার্থক্যগুলি এত বড় নয়…।”
বৈঠক শেষে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, “বর্তমানে আমাদের দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র নিয়ে খেলা হচ্ছে। এ দেশের বৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। সেজন্য আমরা সবাই ‘আইডিয়া অফ ইন্ডিয়া’ বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, “আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে পাটনায় যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি, তারই ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক। আমি মনে করি এই দেশে যা কিছু ভুল হচ্ছে, বিশেষ করে যেভাবে সংবিধানকে ক্ষয় করা হচ্ছে এবং এই দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর বিরুদ্ধে সকল বিবেকবান দলকে একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
সিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, “এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা ভারতকে বাঁচাতে চাই, কারণ আমরা জানি ভারত কী। আমাদের দেশ প্রচণ্ড বহুমাত্রিক হামলার মধ্যে রয়েছে। দেশের উন্নতির জন্য পরিবর্তন করতে হলে বাঁচাতে হবে!”
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, “বিজেপি সরকার দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে সে বিষয়ে আজকের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ।”