শান্তির বাজারে চ্যালেঞ্জার ট্রফি ফাইনালে মুহুরিপুর-কসমোপলিটন

ক্রীড়া প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই।।না খেলেই ফাইনালে কসমোপলিটন ক্লাব। খেতাব দখলের লড়াইয়ে কসমোপলিটন ক্লাব খেলবে মুহুরীপুর জনকল্যাণ সমিতির বিরুদ্ধে। শনিবার বাইখোরা স্কুল মাঠে হবে ম্যাচটি। বৃহস্পতিবার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিলো কসমোপলিটন ক্লাব এবং ব্রু জোয়ান মথৌ দলের মধ্যে। ম্যাচ শুরুর আগে ত্রিপুরার হয়ে খেলা সুকান্ত রিয়াং এ অখেলোয়াড় সুলভ মনোভাব দেখিয়ে দল তুলে নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে ক্রিকেটপ্রেমীরাও। জানা গেছে, ম্যাচ শুরু করার আগে ঠিক সময়মতো কসমোপলিটান ক্লাব মাঠে রিপোর্ট করলেও  ব্রু জোয়াই মথৌ দেরি করে মাঠে আসে এবং এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণও ওদের কাছে ছিলনা। একজন-দু’জন করে ধীরে ধীরে মাঠে আসতে থাকে। ম্যাচ শুরু করার জন্য সময় নির্ধারিত থাকলেও ওদের দেরি করে আসাতে ম্যাচ সময়মতো শুরু করা যায়নি। সাড়ে ৮ টার পরিবর্তে সকাল সোয়া ৯ টায় ম্যাচ শুরু হয়। ৩০ মিনিট দেরির জন্য কসমোপলিটান ক্লাবের অধিনায়ক রাজদীপ দত্ত প্রতি মিনিট দেরিতে ২ রান হিসেবে ৬০ পেনাল্টি রানের আবেদন জানান। দুই আম্পায়ার বিষয়টা প্রতিপক্ষ অধিনায়ক এন, ভসন্তন দেওয়ানকে জানালে দুই অধিনায়কই তা মেনেও নেন, সহমত হয়ে সম্মতিও দেন। এরপরে টসে ব্রু জোয়াই মথৌ এর অধিনায়ক টসে জয়লাভ করে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন। ব্রু জোয়াইন মথৌ এর সিনিয়র ক্রিকেটার  সুকান্ত রিয়াং মাঠেই উপস্থিত হয়নি তখনও। ম্যাচ শুরু করার জন্য মাঠে আম্পায়ার প্রবেশ করার মুহুর্তে সুকান্ত মাঠে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়টা নিয়ে জানতে চান। ওকে বিষয়টা আবারও জানিয়ে দেওয়াও হয়, যদিও সুকান্ত নিজের টিমের অধিনায়ক নন। এরপরে মাঠে আম্পায়ার প্রবেশ করে, কসমোপলিটান ক্লাবের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যানও ক্রিজে আসে। এমনকি ব্রু জোয়াইন মথৌ টিমের প্লেয়াররা  ফিল্ডিং করতে মাঠেও নামে। সুকান্তও হোয়াইট ড্রেস পরে রেডি হয়ে মাঠে নামে। ব্যাটসম্যান গার্ড নেওয়ার জন্য দাঁড়াতেই হঠাৎ করে রামকিশোর রিয়াং আবার পেনাল্টির বিষয়টা জানতে চান। সুকান্ত রিয়াং তৎক্ষণাৎ বলে ওঠেন ৬০ রান পেনাল্টি হলে আমরা খেলবনা। সুকান্ত রিয়াং পুরো দলকে নিয়ে এক মিনিটের মধ্যেই মাঠের বাইরে চলে যায়। শুধু তাই নয়, সময়মতো মাঠে না এসেও রুলস জানা ‘‌ন্যাশনাল’‌ ক্রিকেটার হওয়ার বাহবা উড়িয়ে অঙ্গভঙ্গি করে চেঁচামেচি করতে থাকেন। এবং কোনরূপ আলোচনার সুযোগ না রেখেই দ্রুততার সহিত মাঠের এরিয়া ছেড়েই চলে যায়। সঙ্গে টিমের বাকিরাও ওর পিছু পিছু চলে যায়। ম্যাচ করানোর মানসিকতা নিয়ে টুর্ণামেন্ট কমিটি ওদের বুঝাতে গেলে ওরাও মাঠ ছেড়ে চলে যায়। বিপরীতে কসমোপলিটান ক্লাবের ব্যাটসম্যানদ্বয় ক্রিজেই থাকে আর প্লেয়াররা কিন্তু ড্রেসিংরুমেই থাকে। ম্যাচ করানোর মানসিকতা নিয়ে মহকুমা ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি এবং সচিব  পুনরায় ভসন্তনকে ফোন করে আবারও চিন্তাভাবনা করার সময় দিলেও কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। শেষে নিয়মানুয়ায়ি কসমোপলিটান ক্লাবকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *