আগরতলা, ৪ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরায় সরকারী দফতরে, নিগম, বোর্ড এবং পিএসইউ-তে চাকুরীতে নিয়োগে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। তবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ওই নিয়মে শিথিলতার এক্তিয়ার থাকবে ত্রিপুরা সরকারের। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই সংবাদ দিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। সাথে তিনি যোগ করেন, খরিফ মরশুমে ত্রিপুরায় কৃষকদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন তিনি বলেন, আজ ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ত্রিপুরায় সরকারী দফতরে, নিগম, বোর্ড এবং পিএসইউ-তে চাকুরীতে নিয়োগে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে, এখন থেকে সমস্ত নিয়োগে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, কয়েক মাস ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিছু জটিলতা ছিল, তাই বিলম্ব হয়েছে। অবশেষে বিভিন্ন দফতরের অনুমতিক্রমে আজ ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, এখন থেকে সরকারি দফতর কিংবা টিপিএসসির মাধ্যমে নিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়াও, নিগম, বোর্ড অথবা পিএসইউ-তে চাকুরীতে নিয়োগেও পিআরটিসি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ওই নিয়মে শিথিলতার এক্তিয়ার থাকবে ত্রিপুরা সরকারের। তাঁর কথায়, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা সহ উপযুক্ত প্রার্থী স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পাওয়া যায় না, তবে ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের বাইরের প্রার্থীদের বিবেচনা করবে।
এদিন তিনি আরও বলেন, খরিফ মরশুমে ত্রিপুরায় কৃষকদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধান ক্রয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সারা ত্রিপুরায় প্রায় ৪০টি কেন্দ্রে ওই ধান ক্রয় করা হবে। আগামী ৮ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে ওই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ওই ধান ক্রয়ে সমস্ত খরচ মিলিয়ে ত্রিপুরা সরকার আপাতত ঋণ নিয়ে ৮৫ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করবে। পরবর্তী সময়ে এফসিআই থেকে ওই টাকা ফেরত পেয়ে ত্রিপুরা সরকার ঋণ পরিশোধ করবে। তাঁর দাবি, ধান ক্রয়ের তিনদিনের মধ্যে কৃষকদের প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।