দুর্গাপুর, ১ জুলাই (হি.স.) : পঞ্চায়েত ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক ময়দান। দলীয় পতাকা লাগোনোর মাশুল, আর তার জেরে বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলা অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। হামলার হাত থেকে রেয়াত পেল না প্রার্থীর দেড় বছরের শিশু সন্তান। শুক্রবার রাত্রে ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল লাউদোহার কাটাবেড়িয়া গ্রামে। ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবীতে অবস্থান বিক্ষোভ বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালের।
আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে ত্রিস্তরিয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগেই প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার সন্ধ্যায় পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের কাঁটাবেড়িয়া এলাকায় নির্বাচন উপলক্ষে দলীয়কর্মী সমর্থকরদের নিয়ে পতাকা লাগানোর কাজ করছিলেন বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ ভূঁই। অভিযোগ ওই সময় দুর্গাপুর ফরিদপুর তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুজিত মুখার্জি ও তার সাগরেদ দীনেশ কর্মকার দলবল নিয়ে সন্তোষ ভূঁইয়ের ওপর হামলা চালায়। এলোপাথাড়ী মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সন্তোষকে বাঁচাতে তার স্ত্রী ও মা প্রতিরোধ করলে তাদের ওপরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি সন্তোষবাবুর দেড় বছরের শিশু সন্তানকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে রাত ১১ টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামেই দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “শুধু বিজেপির পতাকা লাগানো অপরাধ। আর তাতেই প্রার্থীকে মারধর করা হয়। প্রার্থীর স্ত্রী ও বয়স্ক মাকেও মারধর করা হয়। দেড় বছরের বাচ্চাকে রেয়াত দেয়নি। তাকেও ধাক্কাধাক্কি করল তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুজিত মুখার্জি ও তার সাগরেদ দীনেশ কর্মকার।” তিনি বলেন,” গনতন্ত্র নেই। অপরাধ একটাই, বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানো যাবে না। এখানে বিরোধীদের কোন ও ক্রিয়াকলাপ করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন,” বিষয়টি কেন্দ্রীয় চাইল্ড কমিশনেও অভিযোগ জানাবো।”
যদিও বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দুর্গাপুর ফরিদপুর তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুজিত মুখার্জি জানান,” অভিযোগ ভিত্তিহীন মিথ্যা। কোনও বিজেপি কর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি । বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অহেতুক এলাকায় এসে শুধু নাটক করেছেন। ভোটের আগে এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে লাউদোহা থানার পুলিশ।