বাজারিছড়া (অসম), ১ জুলাই (হি.স.) : বেপরোয়া একটি অল্টো কারের ধাক্কায় বেঘোরে প্রাণ হারালেন এক ধর্মপ্রাণ মহিলা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে করিমগঞ্জ জেলার বাজারিছড়া থানাধীন শিবেরগুল আতল মুখার্জি এলপি স্কুলের সামনে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে গুরুতর আহত মহিলাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বাজারিছড়ার মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান লেপ্রসি অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা শুরু করার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনার পর এলাকার লোকজন সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং করিমগঞ্জ সদর ডিএসপি।
জানা গেছে, আজ শনিবার দুপুরে শিবেরগুলের বাসিন্দা ননীগোপাল শর্মার স্ত্রী তথা পাঁচ সন্তানের মা ঊষারানি শর্মা (৫৩) বাড়ির পাশে একটি দোকান থেকে কোনও সামগ্রী কিনে নিজ বাড়ির সম্মুখবর্তী লোয়াইরপোয়া-কানমুন সড়ক থেকে কিছু দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় এএস ১১ ওয়াই ৮৯৮৮ নম্বরের একটি অল্টো কার দুরন্ত গতিতে নাগ্রা থেকে রাতাবাড়ির একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। এলাকায় এসে অল্টোচালক আরও দ্রুতবেগে অপর একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সড়কের পাশে দণ্ডায়মান মহিলাকে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা দিয়ে কিছু দূরে ঠেলে নিয়ে যায় অল্টো। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ আগাতপ্রাপ্ত হওয়া ছাড়াও মাথা থেঁতলে যায়। পরে তাঁকে মাকুন্দা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা শুরু করার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঘটনার পর খবর পেয়ে বাজারিছড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ঘাতক অল্টো সহ চালককে নিজের হেফাজতে নেয়। এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয়রা বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানো হয় অভিযোগে প্রতিবাদে ফেঁটে পড়েন। তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। এতে রাস্তার উভয় পাশে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।
তখন বাজারিছড়া থানার ওসি দীপক দাস প্রতিবাদীদের সাথে কথা বলে সড়ক অবরোধমুক্ত করতে ব্যার্থ হন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন পাথারকান্দির সার্কল অফিসার তথা প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিএসপি সদর গীতাৰ্থ দেবশর্মা। পরে স্থানীয়রা তাঁদের দাবি সংবলিত এক স্মারকপত্র তুলে দেন সার্কল অফিসারের হাতে।

