গুয়াহাটি, ২৪ জুন (হি.স.) : অসমে সংহারী বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার জলে ভাসছে ২২টি জেলা। আজ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে পাঁচটি নদীর জল। বন্যাৰ্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪,৯৫,৭৯৯। বন্যার জলে ভাসছে ৫৮টি রাজস্বচক্ৰের ১,৩৬৬টি গ্রাম। প্লাবিত ১৪,০৯১.৯০ হেক্টর ক্ষেতের শস্য। বহু জায়গায় ভেঙে গেছে নদীবাঁধ।
অসম রাজ্য দুৰ্যোগ মোকাবিলা দফতরের সর্বশেষ রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, বেকি, মানস, পাগলাদিয়া, পুঠিমারি এবং ব্ৰহ্মপুত্ৰ নদ দিয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে জল বইছে। বন্যার কবলে পড়ে আজ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে যথাক্ৰমে বজালি, বাকসা, বরপেটা, বিশ্বনাথ, বঙাইগাঁও, চিরাং, দরং, ধেমাজি, ধুবড়ি, ডিব্ৰুগড়, গোলাঘাট, হোজাই, কামরূপ (গ্রামীণ), কোকরাঝাড়, লখিমপুর, মাজুলি, নগাঁও, নলবাড়ি, শোণিতপুর, তামুলপুর এবং ওদালগুড়ি জেলা। এই ২২টি জেলার ৫৮টি রাজস্বচক্ৰের ১,৩৬৬টি গ্রামের পরিস্থিতি শোচনীয়। ওই গুলির মধ্যে বজালির ১৯৬টি, বঙাইগাঁওয়ের ১৪৮টি, চিরাঙের ১২০টি, কামরূপের ১৪৩টি, দরঙের ১৮৯টি এবং নলবাড়ি জেলার ১৮২টি গ্রাম বন্যার জলে প্লাবিত।
রাজ্য দুৰ্যোগ মোকাবিলা দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বন্যার্তদের জন্য ৮৩টি ত্রাণশিবির স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ৭৯টি সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র সহ মোট ১৬২টি কেন্দ্ৰ খোলা হয়েছে। এ পৰ্যন্ত ওই সব শিবিরে ৬,৩৫৭ জন পুরুষ, ৫,২৭৩ জন মহিলা এবং ২,২৬৮টি শিশু সহ মোট ১৪,০৩৫ জন আশ্ৰয় নিয়েছেন। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩,৪৬,৬৩৯টি পশুসম্পদ। এগুলির মধ্যে বড় জীবজন্তু ১,৬৮,৩৮২, ছোট ১,৩৭,৪৯৫টি এবং ৪০,৭৯৮টি হাঁস-মুরগি।
বন্যার্তদের উদ্ধারে এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর ১৯টি নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া বন্যাক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ৫৮টি চিকিৎসকের দল মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। আজ বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্য সামগ্ৰী হিসেবে ১০১৯.৯৭ কুইন্টাল চাল, ১৮৯.১০ কুইন্টাল ডাল, ৫৫.৯৩ কুইন্টাল নুন, ৫,২৬৯.৮০ লিটার সরষে তেল, ৪,৭৭৪.৮৭ কুইন্টাল পশুখাদ্য, ১৫.০০ কুইন্টাল রাইস ব্রান বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের মধ্যে প্ৰয়োজনীয় সাবান, মম, দিয়াশলাই, নেপকিন, চিড়া, গুড়, ত্রিপল, মশার কয়েল ইত্যাদি বিতরণ করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশসন।
দুর্যোগ মোকাবিলার রিপোর্টে যে সব জেলায় পরিকাঠামো ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে, সে সবের এক তালিকা প্রকাশ করা জানানো হয়েছে, বজালি, বিশ্বনাথ, নলবাড়ি, দরং, বাকসা, তামুলপুর, বঙাইগাঁও, চিরাং, ধুবুড়ি, গোয়ালপাড়া, কামরূপ, করিমগঞ্জ, কোকরাঝাড়, নগাঁও, নলবাড়ি জেলার মোট ৯২টি রাস্তা এবং নদীবাঁধ।