কামাখ্যা ধামে আসন্ন অম্বুবাচি মেলার প্রস্তুতি পর্ব শেষ পর্যায়ে, ভিড় বাড়ছে সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তকুলের

নিরাপত্তার প্ৰশ্নে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ প্রশাসনের

গুয়াহাটি, ১৮ জুন (হি.স.) : অসমের রাজধানী গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত বিখ্যাত শক্তিপীঠ কামাখ্যা ধামে আসন্ন অম্বুবাচি মেলার প্রস্তুতি পর্ব শেষ পর্যায়ে। অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠেয় মেলায় নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের ভক্তপ্ৰাণ পর্যটকদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় এবং নির্ঝঞ্ঝাটে মা কামাখ্যার আরাধনা ও পূজা-অৰ্চনা করতে পারেন সে ব্যাপারে কামাখ্যা মন্দির পরিচালন সমিতি, পর্যটন দফতর এবং কামরূপ মেট্রো জেলা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রস্তুতি-পর্ব প্রায় চূড়ান্ত।

এ তথ্য দিয়ে রাজ্যের পর্যটন দফতরের মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া জানান, এবার নীলাচল পাহাড়ের পাদদেশে সোনারাম ময়দানের পরিবৰ্তে কামাখ্যা রেলস্টেশনে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হবে অম্বুবাচির শুভারম্ভ। তিনি জানান, অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে সোনারাম ময়দানে কেবল পাৰ্কিঙের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অন্য স্থানের পরিবৰ্তে পাণ্ডুতে হবে চারটি ভক্তদের জন্য অস্থায়ী শিবির। কামাখ্যা রেলস্টেশনে হবে ভক্ত তথা পর্যটকদের ট্ৰানজিট ক্যাম্প। দেশের বিভিন্ন প্ৰান্ত থেকে আগত ভক্তদের স্টেশন থেকে বাসে করে নিয়ে আসা হবে পাণ্ডুর শিবিরে। শিবিরগুলিতে যাবতীয় সুবিধা পাবেন আবাসিকরা। জানান, অন্যবারের মতো এবারও পাহাড়ের ওপর কোনও ক্যাম্প তৈরি করা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, এবারও অম্বুবাচি মেলায় স্বচ্ছতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এবার অম্বুবাচি মেলাকে নিয়ে সরকারিভাবে কোনও প্ৰচারাভিযান চালানো হয়নি। কোথাও লাগানো হয়নি হোর্ডিং। গুয়াহাটিতে চলমান পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজকর্মের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জানান তিনি।

পর্যটন দফতরের মন্ত্রী জানান, অন্যবারের মতো এবারও কামাখ্যা মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। ভক্তকুল ও মন্দিরের সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্ৰতি নজর রেখে কামাখ্যা ধামের চতুর্দিকে ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এছাড়া মন্দির কর্তৃপক্ষ ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং প্ৰশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক উর্দিধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ, এনসিসি, স্কাউট অ্যান্ড গাইড-এর ক্যাডার নিয়োগ করা হবে।

এদিকে অম্বুবাচি মেলার কয়দিন গুয়াহাটি মহানগরে কোনেও যানজটের সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্ৰহণ করছে পরিবহণ বিভাগ এবং ট্রাফিক পুলিশ।

প্রসঙ্গত, অম্বুবাচি মেলা কামাখ্যার সবচেয়ে বড় উৎসব। আগামী ২২ জুন থেকে শক্তিপীঠ কামাখ্যাধামে পবিত্ৰ মহাঅম্বুবাচি শুরু হবে। চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত। এই উৎসবে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক ও ভক্ত কামাখ্যা দর্শন করতে আসেন। অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে কামাখ্যাধামে ইতিমধ্যে ভক্তদের আগমন শুরু হয়ে গেছে। ভিড় বাড়ছে সাধু-সন্ন্যাসীদের।

গত কয়েকদিন থেক প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যে। গুয়াহাটিতেও হচ্ছে বৃষ্টিপাত। এরই মধ্যে সমস্ত নীলাচল পাহাড় ইতিমধ্যে লাল-গেরুয়া পোশাকে সজ্জিত সাধু-সন্ন্যাসীর ভিড়ে জমে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছেন কালো পোশাক পরে তন্ত্র সাধক ও সাধিকা। যে দিকে চোখ যায় সে দিকে সশরীরে নানা দেব-দেবীর পদচারণা, ভক্তদের মাথা স্পর্শ করে আশীর্বাদ বা নৃত্যের দৃশ্য। দেব-দেবীর সাজে সেজেছেন সাধু-সন্ন্যাসিনীরা। কেউ গায়ে ভস্ম মেখে শিব, তো কেউ নটরাজ, কেউ আবার কালী, নয়তো রাধা-কৃষ্ণ সেজে ভক্তদের আশিস দিচ্ছেন। আবার নিরালায় বহু তন্ত্রসাধক মগ্ন ধ্যানাসনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *