ইম্ফল, ১৫ জুন (হি. স.) : মঙ্গলবার থেকে মণিপুরে নতুন করে শুরু হয়েছে অশান্তি। মঙ্গলবার মধ্য রাতে ইম্ফলের পূর্বে খামেনলোক গ্রামে সাধারণ মানুষের উপরে গুলি চালানোর ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক মহিলা সহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। জ্বলেছে পরপর ৮টি গ্রাম। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে পাঠানো হয়। কিন্তু মাঝপথেই আটকে দেওয়া হল নিরাপত্তা বাহিনীকে। গ্রামের বয়স্ক মহিলাদের নেতৃত্বে ৬০০ জনের একটি দল রাস্তা আটকে দেয়। ফলে নিরাপত্তা বাহিনী ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ওই উত্তপ্ত অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারেনি।
এই বিষয়ে এক সেনা আধিকারিক বলেন, “মঙ্গলবার বিকেলেই খবর আসে খামেনলোক ও তার আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে ৫০০ থেকে ৬০০ জন চড়াও হয়েছেন এবং তারা একের পর এক বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন। খবর পেয়েই অসম রাইফেলস ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয় কাঙ্গপোকপি থেকে। কিন্তু তারা তারেটখেলের চানুঙ্গের কাছে পৌঁছতেই সেনাবাহিনীকে আটকে দেওয়া হয়। মূলত বয়স্ক মহিলাদের দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। ফলে সেনা ও অসম রাইফেলসের বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি।”
নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্য় রাত থেকে শুরু হওয়া অশান্তি নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে রাজ্য নিরাপত্তা পরামর্শদাতা কুলদীপ সিংকে। সেনাবাহিনীর তরফে সন্দেহ, মঙ্গলবার মধ্য রাতে খামেনলোক গ্রাম ঘিরে ফেলা, সাধারণ মানুষের উপরে গুলি চালানো, বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং তারপরে রাস্তা আটকে দেওয়ার গোটা ঘটনাটিই পূর্ব পরিকল্পিত হতে পারে কারণ অশান্তির আগের দিন, সোমবারও খামেনলোকের চানুঙ্গ অঞ্চলের রাস্তা আটকে রেখেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খামেনলোকের আশেপাশে আটটি গ্রাম সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর মিললেও বুধবার হাজারো প্রচেষ্টা করেও সেনা বাহিনীর ২০০ জওয়ান ও অসম রাইফেলসের ২৫০ জওয়ান ঘটনাস্থলগুলিতে পৌঁছতে পারেননি। এমনকী, খামেনলোক গ্রামের অন্দরেও সেনাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মেতেই জনজাতির সংরক্ষণ নিয়ে গত মে মাসের শুরু থেকে যে অশান্তি শুরু হয়েছে মণিপুর জুড়ে, তাতে এখনও অবধি কমপক্ষে ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে কার্ফু, ইন্টারনেট ব্য়ান থেকে শুরু করে সেনা মোতায়েনের মতো একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও অশান্তি রোখা সম্ভব হয়নি এখনও।