দুর্গাপুর, ১০ জুন (হি.স.) রঙ্গীন আলোর ঝলমলানি। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সুসজ্জিত কামরায় উষ্ণ পানীয় চুমুক। তার সঙ্গে স্বল্পবসনের নর্তকীদের নৃত্য। আর তাতেই বেশ জমে উঠেছিল বিলাসবহুল হোটেলের ড্যান্সবার। আর মায়াবী নেশায় বুঁদ নারি পুরুষের সমারোহ ভালই চলছিল। কিন্তু বাদ সাধল কমিশনারেট পুলিশ। শহরের বেসরকারি হোটেল ভাড়া করে নাইট পার্টি আড়ালে চলছিল ডান্সবার। পুলিশি হানায় ধরা পড়ল ডান্সবার চালানো চক্রের এক পান্ডা সহ ৬ জন। উদ্ধার হয়েছে ৫ মহিলা। শুক্রবার রাত্রে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের একটি নামী হোটেলে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম অভিজিৎ মাকুড় বর্ধমানের বাসিন্দা। চক্রের অন্যতম পান্ডা। তাঁর নামেই হোটেলের লাউঞ্জ বুক করা ছিল। এছাড়াও বাকিদের নাম সমীর ঘোষ, অমিত দাস, শ্রীবাস্তব দাস, অরিন্দম কুণ্ডু , বিপ্লব মন্ডল। শনিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুর সিটিসেন্টারের প্রানকেন্দ্র। বহুজাতিক সংস্থার শপিংমলের পাশে বিলাশবহুল অভিজাত হোটেল। বার বারই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আর ততবারই নাম বদলে নতুন মালিকানায় নতুন নামে চালু হয়েছে হোটেলটি। গত কয়েকমাস ধরেই অভিযোগ উঠেছিল, হোটেলের নাইট পার্টির আড়ালে ড্যান্সবার চলছিল। আলোর ঝলকানির সঙ্গে রঙিন পানীয়র সঙ্গে স্বল্পবসনের মহিলাদের নৃত্য। স্বল্প বসনাদের দেহবল্লরীতে পানীয়ের গ্লাসের সঙ্গে পুরুষ হৃদয়ে তুফান। তার সঙ্গে নকল টাকার বর্ষা। ম ম করছে হোটেল প্রাঙ্গন।
অভিযোগ, তার সঙ্গে যৌনপিপাসা মেটাতে বসত মধুচক্রের আসরও। তার টানেই দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার স্থিত ওই অভিজাত হোটেলে ভীড় জমিয়েছিল একশ্রেনীর পুরুষ। রাত যতই গড়ায় মায়াবী নেশায় বুঁদ নারি পুরুষের যুগল। বেশ সমারোহে ভালই চলছিল। কিন্তু বাদ সাধল কমিশনারেট পুলিশ। প্রশাসন ও পুলিশ একযোগে হানা দিল এই অভিজাত হোটেলে। নেশা কেটে তখন থরহরি কম্প। কাঁপছে হোটেলের ম্যানেজার , আয়োজক সবাই। বেআইনী ড্যান্সবার চালানোর অভিযোগে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। তার সঙ্গে উদ্ধার করে ৫ মহিলাকে। পুলিশের অভিযানে মহুর্তেই ঝিমিয়ে পড়ে রঙিন আলোর রঙ্গিন পানীয়র আসর। হোটেলের লাউঞ্জের ঘরে ছড়িয়ে তখন মদের বোতল। নকল টাকা, নানান রসনাতৃপ্তি খাবার, বিলাসিতার নানান চিহ্ন। আসরের মুল উদ্যোক্তা অভিজিৎ মাকুড়।
সরাসরি ঘটনার কথা অস্বীকার করে। তবে হোটেলের ম্যানেজার আসরাফ হোসেনের বলেন,” চুক্তি পত্র অনুযায়ী গেট টুগেদার হওয়ার কথা ছিল।” রাত বাড়তেই নাকি গেট টুগেদারের বদলে রঙিন পানীয়র ফোয়ারার সঙ্গে স্বল্পবসনের মহিলাদের উদ্যম নৃত্য চলছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের আসর বসছিল সিটি সেন্টারের এই অভিজাত হোটেলে, এমনই খবর ছিল পুলিশের কাছে। শুক্রবার রাতেও গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে। তারপরেই এই পুলিশি অভিযান। তবে এটাই প্রথম নয়, দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর কাঁকসার একাধিক অভিজাত হোটেল এধরনের ডান্সবার চলে আসছে। ২০১৯ সালে কাঁকসার বিরুডিহায় জাতীয় সড়কের পাশে একইরকমভাবে ডান্সবার চলা হোটেলে হানা দিয়েছিল মহকুমা প্রশাসন। ওইসময় হোটেলের লাইসেন্সও বাতিল করে। তারপর আবারও ওই একই চক্র শহরের অভিজাত হোটেলকে বেছে নেয়। চক্রের পান্ডারা খুঁজে নেয় এরাজ্য ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্যের গ্রাহকদের। তবে পিছনে একশ্রেনীর “প্রভাবশালী” দেরও মদত থাকে বলে অভিযোগ। আসানসোল, দুর্গাপুর খনি অঞ্চল সহ প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও আসে সাময়িক সুখের খোঁজে অনেক পুরুষ। টাকার বিনিময়ে পার্টিতে চলে “আইটেম গার্লদের নাচ”, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আসা হয় মহিলাদের। ওড়ে আসল টাকার বদলে নকল টাকা। বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে থাকে দামী উষ্ণ পানীয়। রাতের শহরের হৃদপিন্ড সিটিসেন্টারে এভাবেই মায়াবী আলোয় ফুটে ওঠে এক অন্য জগৎ। প্রশ্ন, ডান্সবার চালানোর জন্য সরকারের কাছে বৈধ অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু, সেসবকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কিভাবে ড্যান্সবার চালানোর হত?
এসিপি তথাগত পান্ডে জানান,” হোটেলটিতে ড্যান্সবার চালানোর কোন বৈধতা নেই। অশ্লীল পোষাকে ড্যান্সবার চলছিল। তাই অভিযান চালানো হয়েছে। ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনুমান কোন চক্র কাজ করছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।”