কলকাতা, ৫ মে (হি.স.) : ধর্মতলা চত্বরে আর নয়। শনিবার ডিএ আন্দোলনকারীদের মিছিল হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ঢুকছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেমন কৌতূহল রয়েছে তেমনই প্রশাসনের মধ্যে বয়ে যাচ্ছে উৎকণ্ঠার চোরাস্রোত।
ডিএ আন্দোলনকারীদের মিছিল হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিক্রমে। পুলিশ প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেকের বাড়ির এলাকায় মিছিল করতে দিতে রাজি হয়নি। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ মিছিল হলে অসুবিধা কোথায়? বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা অবশ্য আন্দোলনকারীদের শর্ত বেঁধে দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মিছিল করতে হবে সুশৃঙ্খলভাবে। এমন কোনও স্লোগান সেখানে দেওয়া যাবে না যাতে উত্তেজনা ছড়ায়।
আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ প্রশাসনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করছে। ডিসি পদমর্যাদার গুচ্ছ অফিসারকে শনিবার সকাল থেকেই হাজরা মোড়ে দায়িত্ব দিয়েছে লালবাজার। তবে পুলিশ কর্তাদের অনেকেই বলছেন, ডিএ আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব শৃঙ্খলা পরায়ণ হলেও বাকি যে হাজার হাজার মানুষ আসবেন তাঁদের ‘টেম্পারমেন্ট’ কেমন থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মিছিল নগরী কলকাতায় শনিবার অভূতপূর্ব ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে বলেই মত অনেকের। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর বাড়ি লাগোয়া এলাকায় কখনও কোনও মিছিল হয়নি। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের চাকরিপ্রার্থীরা যখন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তখনই তা আটকে দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এবার তার উপায় নেই। আদালতের নির্দেশে শনিবারের মিছিলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে পুলিশকেই।
মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও এমন বহু মিছিল তাঁর বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বামেরা। কিন্তু সেই সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পুলিশও আটকে দিয়েছিল তাদের।
ডিএ আন্দোলনকারী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘শনিবার রেকর্ড জমায়েত হতে চলেছে। আদালত যা নির্দেশ দিয়েছে তা মেনেই মিছিল হবে শনিবার।’
মিছিল শুরু হবে হাজরা মোড় থেকে। তারপর তা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট হয়ে, হরিশ মুখার্জি রোড দিয়ে আশুতোষ কলেজের পাশের রাস্তা দিয়ে বেরোবে। এই রাস্তায় মমতার বাড়ি একেবারে কাছাকাছি পড়বে না। কারণমুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি একটু গলির ভিতর। তবে অভিষেকের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এর একেবারে দুয়ার দিয়ে যাবে মিছিল। ওই জায়গাটির পুলিশ কী নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করবে সেটাও দেখার। অনেকে বলছেন, ডিএ আন্দোলনকারীদের মিছিল হবে সরকার ও শাসকদল নিয়ন্ত্রণের এপিসেন্টারে। বাংলার রাজনীতিতে তার কোনও কম্পন অনুভূত হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।

