পৃথক কমতাপুর রাজ্য গঠন হলে ক্ষমতা চলে যাবে অন্যদের হাতে, তাই এ দাবি পূরণ সম্ভব নয়, কোচ-রাজবংশীদের সমাবেশে বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী

এখানে আমরা সংখ্যালঘু হয়ে গেছিঅন্য সম্প্রদায়ভুক্তদের কাছে জমি বিক্রি করবেন না’, আহ্বান হিমন্তবিশ্বের

বঙাইগাঁও (অসম)১৯ এপ্রিল (হি.স.) : পৃথক কমতাপুর রাজ্য গঠিত হলে এর ক্ষমতা চলে যাবে অন্যদের হাতে, তাই এই দাবি পূরণ সম্ভব নয়। তাছাড়া ‘এখানে আমরা সংখ্যালঘু হয়ে গেছি। অনেকে বেশি দাম পেয়ে অন্য সম্প্রদায়ভুক্তদের কাছে জমি বিক্রি করছেন। এতে বিপদ অবশ্যম্ভাবী।’ আজ বুধবার এভাবেই কোচ-রাজবংশীদের সতর্ক করে অন্যদের কাছে তাঁদের জমি বিক্রি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

বঙাইগাঁওয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনের ‘বিহুয়া উৎসব’। সারা কোচ-রাজবংশী ছাত্ৰ সংস্থা অনুমোদিত সব কয়টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এবং কেন্দ্ৰীয় বিহুয়া উৎসব উদযাপন সমিতির সহযোগিতায় বঙাইগাঁও জেলার বড়পাড়া সর্বজনীন ময়দানে কোচ-রাজবংশীদের ‘বিহুয়া উৎসব’-এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে উদাত্ত কণ্ঠে ভাষণ দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর পরম্পরগত লোকজীবন এবং লোকশিল্প এই জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক চেতনাকে প্ৰাণবন্ত করে তোলার পাশাপাশি অসমের বৰ্ণিল, বৈচিত্ৰ্যময় এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত লোককলা-কৃষ্টির সৌরভ প্ৰকাশ করে আসছে। বিহুয়া হচ্ছে জনগোষ্ঠীটিক প্ৰাণের এক স্পন্দিত উৎসব।‌

তিনি বলেন, ‘বহাগ বিহু’ জাতি-জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য গড়ে অসমিয়া জনসাধারণের পৃথক সাংস্কৃতিক পরিচয় বিশ্ব-প্ৰেক্ষাপটে উজ্জ্বলভাবে প্ৰদৰ্শন করছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্ৰীড়া প্রভৃতি সর্বক্ষেত্ৰে বিকশিত করার লক্ষ্যে একতা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে তিনি কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথক রাজ্য গঠন, উপজাতির মর্যাদা ইত্যাদি দাবির ভিত্তিতে কোচ-রাজবংশীরা যে আন্দোলন করছেন, তা ঠিক নয়। বরং এই আন্দোলন ছেড়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে একটি বিপ্লব আনতে কোচ-রাজবংশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘কোচ-রাজবংশীদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রচারে মনোনিবেশ করা উচিত। আপনাদের একটি স্বাভিমানী পরিচয় আছে। তা রক্ষার জন্য আজই আপনাদের জমি অন্যের কাছে বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিন।’

বীর চিলারায়, মহারাজা নরনারায়ণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্ৰী কোচ-রাজবংশী জনগণকে তাঁদের জমি অন্যের কাছে বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আন্দোলনের মাধ্যমে পৃথক রাজ্যের দাবি করছেন। কিন্তু এটাও আপনাদের মনে রাখতে হবে, পৃথক রাজ্য গঠিত হলে এর ক্ষমতা চলে যাবে অন্যদের হাতে। কারণ এখনই এখানে কোচ-রাজবংশীরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়ে গেছেন। তাই ভবিষ্যত অন্ধকার।’

কোচ-রাজবংশীদের উপজাতীয় মর্যাদা দেওয়া সম্পৰ্কে মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শর্মা বলেন, ‘অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলায় বসবাসকারী কোচ-রাজবংশীদের উপজাতির মর্যাদা দিতে আদিবাসীদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু অন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীয়দের কোচ-রাজবংশীদের উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। তবে রাজ্য সরকার এই সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করছে।’

মহান কোচ যোদ্ধা বীর চিলারায় এবং মহারাজা নরনারায়ণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেন, ‘বীর চিলারায় এবং মহারাজা নরনারায়ণ শুধুমাত্র সাহসী যোদ্ধা ছিলেন না, তাঁরা শ্রীমন্ত শংকরদেব এবং মহাপুরুষ মাধবদেবের মতো অসমের মহান সন্তদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতাও করেছিলেন। এর জন্য অসম সর্বদা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।’

বিহুয়া উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা আজ বঙাইগাঁও সার্কিট হাউজে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত একটি চা চক্রে অংশ নিয়েছিলেন। চা চক্রে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রগতিশীল ধারণা এবং এ সম্পর্কিত নানা জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছেন তিনি।

আজকের সমাবেশে অন্য বহুজনের সঙ্গে ছিলেন, রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া, বিধায়ক অজয়কুমার রয়, কমতাপুর স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কাৰ্যনির্বাহী সদস্য গকুল বৰ্মণ, কমতাপুর স্বশাসিত পরিষদের সদস্য প্ৰণবজ্যোতি বৰ্মণ, বড়োল্যান্ড টেরিটরিয়াল রিজিওন (বিটিআর)-এর পারিষদ অরূপকুমার দে, সারা কোচ-রাজবংশী ছাত্ৰ সংস্থার সব কয়টি সংগঠনের উপদেষ্টা, সভাপতি, কৰ্মকৰ্তাবৃন্দ, বিজেপির বঙাইগাঁও জেলা সভানেত্ৰী হিমানী অধিকারী প্ৰমুখ।