আগরতলা, ১২ এপ্রিল (হি. স.) : গত ৭ দিন যাবৎ নিখোঁজ ছিলেন পূর্ব প্রতাপগড়ের বাসিন্দা দীপঙ্কর ঘোষ। আজ সকালে হাওড়া নদী থেকে তাঁর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁকে খুন করা হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ তাঁর পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন কৃষ্ণ ঘোষ তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই, মৃতের পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁকে খুন করা হয়েছে।
মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পূর্ব প্রতাপগড়ে জনমনে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী সহ মৃতের পরিবার। কারণ, পরিবারের তরফে মহারাজগঞ্জ ফাঁড়ি এবং পূর্ব থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ দীপঙ্কর ঘোষকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ এপ্রিল দীপঙ্করকে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ ঘোষ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারপর একাধিকবার তাঁর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া মিলেনি। পরর্বতী সময়ে এলাকার সি সি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে মহারাজগঞ্জ ফাঁড়ি এবং পূর্ব থানার পুলিশের কাছে কৃষ্ণ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের গাফিলতির কারনেই সাতদিন পর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, দাবি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর। তাঁদের আরও অভিযোগ, তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই ছিল না পুলিশের। একাধিক বার থানায় যাওয়া হলেও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
অবশেষে আজ সকালে স্থানীয় মানুষ হাওড়া নদীতে একজনের দেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দেহটিকে নদী থেকে উদ্ধার করে এবং নিশ্চিত হন তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন এবং মৃতদেহ সনাক্ত করেন।
জনৈক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে দীপঙ্কর ঘোষকে স্কুটি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সি সি ক্যামারার ফুটেজ জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই ফুটেজটি স্পষ্ট না হওয়ার কারণে কৃষ্ণ ঘোষকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়না তদন্তের পর জানা যাবে কিভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
2023-04-12

