ত্রিপুরা, ২৫ নভেম্বর (হি.স.) : একই দিনে দুই পৃথক স্থানে নয়জন করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ঘটনায় ফের ভারত-বাংলাদেশের ত্রিপুরা সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনে ত্রিপুরার কৈলাশহরে ইরানি থানার পুলিশের হাতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা ছয় বাংলাদেশী নাগরিক আটক হওয়ার পর ওইদিন রাতে ফের অসম ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন আরও তিন বাংলাদেশী নাগরিক ।
ধৃতরা হলেন, বাংলাদেশ নেত্রকোনা জেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের জনৈক আব্দুল মালিকের পুত্র ফারদিন ইসলাম (২৪), মিরপুর জেলার নতুনবাজার গ্রামের জনৈক মোস্তফা আলীর পুত্র সুহাগ মিয়া (২০) এবং বগুড়া জেলার বুড়াইল নন্দীগ্রামের জনৈক ফয়জুল প্রামানিকের পুত্র আশরাফুল ইসলাম (২৫) ।
জানা গেছে যে, বৃহস্পতিবার রাতে চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় পুলিশের নাকা চেকিং চলাকালীন সময়ে সেইস্থানে ঘোরাফেরা করছিলো ধৃত বাংলাদেশি তিন যুবক । আর এতেই সন্দেহ জাগে নাকা চেকিং-এ থাকা পুলিশ কর্মীদের । তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তিন যুবকের কথাবার্তায় কিছুটা অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রথমে তাদের আটক করা হয় । এরপরই পুলিশের সন্দেহ প্রকট হয় ।
তাদের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশী টাকা সহ অবৈধ ভারতীয় কিছু নথিপত্র উদ্ধার হয় । বাংলাদেশি নাগরিক বলে পুলিশের সন্দেহ নিশ্চিত হলে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ।
চোরাইবাড়ি থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রথমে ধৃত তিন যুবক ভূল পরিচয় দিলে পুলিশের পক্ষ থেকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গের বেলাপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘ দিন ধরে তামিলানাড়ুতে একটি কাপড়ের ফেক্টরিতে কর্মরত ছিল বলে জানায় তারা । সেখানেই তারা দালাল মারফর ভারতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে দীর্ঘ এক বছর ধরে বসবাস করে আসছিল ।
পুলিশ আধিকারিক জানান যে, ধৃত তিন যুবক নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রেইনে ধরে বুধবার রাতে প্রথমে শিলচর আসে । সেখান থেকে তারা একটি ভাড়া গাড়ি করে সড়ক পথে বৃহস্পতিবার চুরাইবাড়ি সীমান্তে আসার পর পায়ে হেঁটে নাকা চেকিং পয়েন্ট অতিক্রম করতে চেষ্টা করছিলো । আর তখন সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীদের সন্দেহ হলে তাদের প্রথমে আটক করা হয় । এরপর অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় ।
তিনি জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া তিন বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনের ৩ ধারায় মামলা রুজু করে আজ শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে । পরে আদালতের নির্দেশে তাদেরকে হাজতবাসে পাঠানো হয়েছে ।

