রাষ্ট্রের প্রগতি এবং যুবদের বিকাশের জন্য সমগ্র শিক্ষা প্রণালী আবশ্যক : রাষ্ট্রপতি

আগরতলা, ১২ অক্টোবর (হি. স.) : রাষ্ট্রের বিকাশে শিক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রের প্রগতি এবং যুবদের বিকাশের জন্য সমগ্র শিক্ষা প্রণালী আবশ্যক। এক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সাথে প্রাথমিক শিক্ষাকেও অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বুধবার ত্রিপুরা সফরে এসে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এভাবেই তিনি শিক্ষার প্রতি জোর দেওয়ার জন্য বলেছেন। তাই, এদিন তিনি ত্রিপুরার সামগ্রিক বিকাশের প্রশংসা করতে গিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি বাহবা দিয়েছেন।

দু’দিনের ত্রিপুরা সফরে এসে আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিকাল সাড়ে তিনটায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১নং হলে ভার্চুয়ালি আগরতলার ক্যাপিট্যাল কমপ্লেক্সে বিধায়ক আবাসনের উদ্বোধন ও ৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যেসমস্ত প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেগুলি হচ্ছে মনপুই-দামছড়া সড়কের উন্নয়ন, তীর্থমুখ হয়ে যতনবাড়ি মন্দিরঘাট সড়কের উন্নয়ন, পুষ্পবন্ত প্রাসাদে মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য মিউজিয়াম এন্ড কালচারাল সেন্টার, দরবার হল ও সংশ্লিষ্ট ভবন, গোর্খাবস্তিতে একটি বহুতল ভবন, ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে ৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ১০০ আসন বিশিষ্ট ৯টি বয়েজ / গার্লস হোস্টেল এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি আগরতলা।

এদিন তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ত্রিপুরা সফরে এসে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। বিভিন্ন রাজ্যে সফরের সময় ভাবলাম পূর্বোত্তরেও যাত্রা হোক। আদি শক্তির আশীর্বাদে পূর্বোত্তর সফরের সুযোগ পেয়েছি। তাঁর কথায়, পূর্বোত্তরে এই সফরে নতুন রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ এবং আমার ভাবনার বহি:প্রকাশ ঘটবে। তিনি বলেন, আজ ভারত বিশ্বের পঞ্চম অর্থ ব্যবস্থার দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারত ৫ ট্রিলিয়ন অর্থব্যবস্থার দেশ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে পৌছাতে পূর্বোত্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কারণ, এই অঞ্চলের পরিশ্রমী মানুষ দেশকে সেই লক্ষ্যে নিয়ে যেতে ভূমিকা পালন করবেন।

ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসায় রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এই রাজ্য সমগ্র দেশে বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেছে। সাক্ষরতায় দেশের মধ্যে অগ্রণী রাজ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। ত্রিপুরায় ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, কলা বিষয়ে শিক্ষা অর্জনের সারা দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসছেন। তিনি উত্ফুল্ল প্রকাশ করে বলেন, আজ ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির উদ্বোধন ভীষণ প্রসন্নতা অনুভব হচ্ছে। ল ইউনিভার্সিটি তিন দশক ধরে দেশের মধ্যে আইনের শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তাঁর আশা, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পূর্বোত্তর নয় সমগ্র দেশে আইনের শিক্ষায় দায়িত্ব নেবে।

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের প্রগতি এবং যুবদের বিকাশের জন্য সমগ্র শিক্ষা প্রণালী আবশ্যক। এক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিও অধিক জোর দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, আমাদের দেশের মেয়েরা সমস্ত ক্ষেত্রে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। মেয়েরা এগিয়ে গেলে তবেই সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে।

তাঁর বিশ্বাস, ত্রিপুরার সাথে সমগ্র পূর্বোত্তরের বিকাশের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় সমস্ত ক্ষেত্রে উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে। তাই, আজ পূর্বোত্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনে অংশ নিয়ে ভীষণ প্রসন্নতা অনুভব হচ্ছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সহায়তায় এই অঞ্চলের বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। তাতে রেল বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

এদিন রাষ্ট্রপতি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, আজ পুষ্পবন্ত প্রাসাদে মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য মিউজিয়াম এন্ড কালচারাল সেন্টার, দরবার হল ও সংশ্লিষ্ট ভবনের শিলান্যাস করে ভীষণ খুশি হয়েছি। তিনি জানতে পেরেছেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ত্রিপুরা সফরে একাধিক বার পুষ্পবন্ত প্রাসাদে থেকেছেন। তাই, রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এই অনুষ্ঠান যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলে তিনি মনে করেন।

এদিন এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা, উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, ত্রিপুরার আইন মন্ত্রী রতন লাল নাথ, কৃষি মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় এবং ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী, ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভাষণে রাষ্ট্রপতির জীবনী তুলে ধরেছেন। তাঁর জীবনগাঁথা সকলের জন্য প্রেরণাদায়ক, সেই বিষয়গুলিও বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *