বিশ্বে ভারতের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে : মোহন ভাগবত

নাগপুর, ৫ অক্টোবর (হি.স.): বিশ্বে ভারতের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই বেড়েছে। আমরা যেভাবে শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করেছি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সময় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি, তাতে বোঝা যাচ্ছে বিশ্ব আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-র সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বুধবার সকালে নাগপুরে আরএসএস-এর সদর দফতরে আয়োজিত হয় বিজয়া দশমী অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি এবং মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারেস্টে আরোহণকারী প্রথম মহিলা সন্তোষ যাদব। আরএসএস-এর ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রধান অতিথি হিসেবে একজন মহিলাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিন নিজের বক্তৃতায় আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বলেছেন, আমাদের মেয়েদের ক্ষমতায়ন করতে হবে। নারী ছাড়া সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। সরসঙ্ঘচালক আরও বলেছেন, দ্বিতীয় প্রকারের বাধা যা আমাদের সনাতন ধর্মকে বাধাগ্রস্ত করে তা এমন শক্তির দ্বারা তৈরি করা হয়েছে যারা ভারতের ঐক্য ও অগ্রগতির প্রতি বিদ্বেষী। তারা ভুয়ো আখ্যান ছড়ায়, নৈরাজ্যকে উৎসাহিত করে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, সন্ত্রাস, সংঘাত ও সামাজিক অস্থিরতাকে উস্কে দেয়। কোভিড-পরবর্তী আমাদের অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে তা আরও বৃদ্ধি পাবে। খেলাধুলায়ও আমাদের খেলোয়াড়রা দেশকে গর্বিত করছেন। পরিবর্তনই পৃথিবীর নিয়ম, কিন্তু সনাতন ধর্মে দৃঢ় থাকা উচিত।”

আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত আরও বলেছেন, একটি মিথ রয়েছে ইংরেজি ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শিক্ষানীতি যেন ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ সংস্কৃতিবান, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে যারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধও হয়- এটাই সবার ইচ্ছা। নতুন শিক্ষানীতিকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা উচিত সমাজের।…জনসংখ্যার জন্য সম্পদ প্রয়োজন। সম্পদ নির্মাণ না করে বৃদ্ধি পেলে তা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যেখানে জনসংখ্যাকে সম্পদ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। উভয় দিককে মাথায় রেখে আমাদের সবার জন্য একটি জনসংখ্যা নীতিতে কাজ করতে হবে।

মোহন ভাগবত আরও বলেছেন, জনগণের উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা, তবে আইনের মধ্যে থেকে কাজ করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা স্বাভাবিক হওয়া উচিত…আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ধর্ম-ভিত্তিক জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা উপেক্ষা করা যাবে না। জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ভৌগলিক সীমারেখার পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করে। জন্মহারের পার্থক্যের পাশাপাশি বলপ্রয়োগ, লোভ বা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হওয়াও বড় কারণ। সরসঙ্ঘচালক আরও বলেছেন, হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই ধারণার সাথে একমত কিন্তু ”হিন্দু” শব্দের বিরোধী এবং অন্য শব্দ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এটা নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। ধারণার স্বচ্ছতার জন্য – আমরা নিজেদের জন্য হিন্দু শব্দের উপর জোর দিতে থাকব। মন্দির, জল এবং শ্মশান সবার জন্য অভিন্ন হওয়া উচিত। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *