মানুষ সত্যি কি চাইছেন বুঝতে হলে বিজেপির অনুষ্ঠানে যোগ দিন, বামেদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী ডা: সাহা

আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : নির্বাচনে বৈজ্ঞানিকভাবে রিগিং করা বামেদের চিরাচরিত স্বভাব ছিল। তাই, এখন যে কোন নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হলেই মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ তুলেন। ত্রিপুরায় সামাজিক ভাতা ৭০০ টাকা থেকে ২০০০ বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত ধন্যবাদ রেলীতে এভাবেই সিপিএম তথা বামেদের একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা। তাঁর কটাক্ষ, ২০১৮ সালের পূর্বে বামপন্থী ক্যাডাররা বলতেন, রিগিং বৈজ্ঞানিকভাবে হলে তা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য। মানুষ সত্যি কি চাইছেন বুঝতে হলে বিজেপির অনুষ্ঠানে যোগ দিন, বামেদের উদ্দেশ্যে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আজ শুধুই বামেদের ভূমিকা নিয়ে নানা বিষয় মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বামেরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছেন। তাই, তাঁরা ভোটে পরাজিত হয়ে শুধুই আবোল-তাবোল বকেন। তাঁরা মনে করেন, মানুষ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, তাই তাঁদের পরাজয় হয়েছে।

ডা: মানিক সাহা এদিন বামেদের তীব্র ভাষায় ভর্ত্সনা করে বলেন, এখন আইন-শৃংখলার অবনতি হয়েছে দাবি করে বিরোধীরা ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। অথচ, বাম আমলে ত্রিপুরায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির বিষয়টি তাঁরা বেমালুম ভুলে গেছেন। তাঁর কটাক্ষ, সমস্ত বিদ্যালয় বাম আমলে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের আখড়া ছিল। প্রত্যেক জেলায় খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ রোজকার ঘটনা ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে ত্রিপুরা এখন অনেকটা মুক্ত হয়েছে। অথচ, তাঁরা এমন ভাব দেখাচ্ছেন ত্রিপুরায় অশান্তি মানুষ নতুন দেখছেন।

চাকুরিচ্যুত শিক্ষকদের উপর লাঠিচার্জ নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার হাবভাব দেখে মনে হয়েছে ত্রিপুরায় এমন ঘটনা প্রথম হয়েছে, কটাক্ষ করে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এদিন বামেদের মনে করিয়ে দেন, লাঠিচার্জ ত্রিপুরায় বিজেপি আনেনি। বাম আমলে এমনই এক প্রতিবাদ কর্মসূচীতে পাপাই সাহা বেঘোরে প্রাণ দিয়েছেন, সেই ক্ষত বামেরা ভুলে যাননি নিশ্চয়ই। তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, বাম আমলে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচীতে পুলিশ অমানবিকভাবে বল প্রয়োগ করেছে। তখন আজকের বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আসিন ছিলেন, তোপ দাগেন ডা: মানিক সাহা।

ত্রিপুরার বেহাল দশার জন্য বামেদের দায়ী করে ডা: সাহা বলেন, বিরোধীদের মনে করাতে চাইছি, তাঁদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার জন্য আজ সরকারের কাঁধে ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চেপে আছে। সরকারি পরিষেবায় স্বজনপ্রীতি এবং ১০৩২৩-এর মতো নীতিগত ভুল পুরো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু, আমরা আমাদের দায়িত্ব থেকে পিছপা হই না। সকলের প্রাপ্য সম্মান প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি, জোর গলায় দাবি করেন তিনি।

তাঁর মতে, আজকের ধন্যবাদ রেলীতে মানুষের উপস্থিতি কংগ্রেস এবং সিপিএম উভয়ের জন্য বিপদ সংকেত। তাঁর কথায়, উত্সবের মরশুমেও বিশাল সংখ্যায় মানুষ আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তাতেই বোঝা যাচ্ছে, পূর্বতন সরকারের জমানা থেকে এখন মানুষ অনেক স্বস্তিতে রয়েছেন। এবং, বিরোধীদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত, কারণ নির্বাচন খুব দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। ডা: সাহা বলেন, আরও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, যা খুবই শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে।

এদিন উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা বলেন, বিজেপি উন্নয়ন ছাড়া আন্দোলনে বিশ্বাস রাখে না। তাঁর দাবি, গত চার বছরে আমাদের কর্মীরা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের চাঁদা নিয়ে জনগণ, সরকারি কর্মচারী বা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেননি। আমরা এত সস্তা রাজনীতি করি না। আমরা রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে ন্যায়সঙ্গত উন্নয়নে বিশ্বাস করি, দৃঢ়তার সাথে বলেন তিনি।অন্যদিকে বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, গত ২৫ বছর ধরে ত্রিপুরা সিপিআইএম নামক একটি চীনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে বিজেপি একটি প্রতিষেধক হিসাবে এসেছে। ২০২৩ সালে আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই ভাইরাসটি আবার রাজ্যে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *