নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর : নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়তে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কতিপয় পুলিশ অফিসার৷ এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেল লংতরাইভ্যালী মহকুমার মনু থানার অন্তর্গত শিববাড়ি এলাকায়৷ গভীর রাতে সন্দেহ জনক গাড়িকে বিনা তল্লাশিতেই পার করে দিয়ে পরের দিন যারা গাড়ি সম্পর্কে অবগত করেছিল তাদেকেই থানায় ডেকে এনে অভিযুক্তের মতো ব্যবহার করা হয়৷ মনু থানার পুলিশ অফিসারের এমন কর্মকান্ডে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷
ঘটনা ১৪ই সেপ্ঢেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ৷ দলীয় কাজ সেরে কার্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিববাড়ি নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন করমছড়া মন্ডলের বিজেপি সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ চাকমা৷ ফেরার পথে প্রভাত গিরির বাড়ির সামনে একটি টিআর০৫ই-১৭৮৪ নম্বরের বোলেরো পিকআপ গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে দেখে তাদের সন্দেহ হয় গাড়িতে নেশাদ্রব্য থাকতে পারে৷ কারণ প্রভাত গিরি নিজেই কুখ্যাত নেশা কারবারি৷ কয়েক মাস আগেই তার বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণ ব্রাউন সুগার সহ নেশা সামগ্রী উদ্ধার হয়৷ তাছাড়া কাঞ্চনবাড়ি হয়ে যে রাস্তাটি বের হয়েছে তা নেশা কারবারীদের জন্য বড় নিরাপদ করিডর৷ তাই প্রসেনজিৎবাবু মনু থানায় খবর দেন৷ খবর পেয়ে থানার পুলিশ অফিসার অজিত দেববর্মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান৷ অভিযোগ ঘটনাস্থলে পৌঁছেই সন্দেহজনক গাড়ি তল্লাশি তো দূরের কথা তিনি উল্টো যারা খবর দিয়েছে তাদের উপরই অগ্ণি শর্মা হয়ে পড়েন৷ কারা গাড়ি আটকেছে বলে শাসাতে থাকেন৷
এলাকাবাসী বারবার বোঝাচ্ছিল যে গাড়িটা দাড়ানো অবস্থায় ছিল৷ তাই সন্দেহ হওয়াতেই থানায় খবর দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু কে শুনে কার কথা! প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ির চালক পুলিশ অফিসারকে কাকে যেন ফোন লাগিয়ে দেয়৷ সাথে সাথেই প্রসেনজিৎবাবুদের সকাল বেলা আসতে বলেই সন্দেহভাজন বলেরো পিক আপ গাড়িটি নিয়ে মনুর দিকে চলে আসেন৷ তারা বিষয়টি মোবাইল বন্দি করে রাখতে চাইলে শুধু খারাপ ব্যবহারই নয় মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন করিৎকর্মা অজিত দেববর্মা৷ ১৫ই সেপ্ঢেম্বর সকালে কথা মতো মনু থানায় আসলে অভিযুক্তদের মতো ব্যবহার করা হয়৷ দীর্ঘক্ষন থানায় বসিয়ে রেখে পরে তাদের ফটো তুলে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়৷ কি কারণে তাদের ফটো তোলা হলো তারা নিজেও বুঝে উঠতে পারেনি৷ প্রশ্ণ হলো যদি সুনাগরিক হিসাবে সন্দেহজনক গাড়ি দেখে তারা থানায় খবর দেওয়াটাই কি তাদের অপরাধ? কোন অদৃশ কারণে অভিযোগের পরও বিনা তল্লাশিতে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে?
রাতে চালকের মোবাইল দিয়ে কার সাথেই বা কথা বলেছেন সেকেন্ড ওসি সাহেব ? এলাকায় গুঞ্জন নেশা কারবারীদের সাথে কোন যোগসাজশ নেই তো উনার? তবে বিষয়টা যে এত সহজেই ছেড়ে দেওয়া হবে না তা পরিস্কার৷ লংতরাইভ্যলী মহকুমা শাসকে ও ধলাই জেলা পুলিশ সুপারকেই লিখিত অভিযোগ করছেন৷ শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও প্রমান সহ অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷ প্রসেনজিৎ বাবু জানিয়েছেন দলীয়ভাবেও বিজেপি প্রদেশ কমিটিকেও অবগত করা হবে৷ অবিলম্বে পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হবে৷ পুলিশ অফিসার নিজেই নেশাপাচার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলেও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন৷