আগরতলা, ২৭ জুলাই (হি. স.) : সমতল নয়, ত্রিপুরায় পাহাড় ভাবাচ্ছে বিজেপিকে। তাই, জনজাতি ভোট ব্যাঙ্কে একার জোড়ে থাবা বসাতে দিশা-নির্দেশ দিয়ে গেলেন দলের সংগঠন মহামন্ত্রী বি এল সন্তোষ। মন্ডল স্তরে বিস্তারক নিয়োগের মধ্য দিয়ে জনজাতি এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সেই লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ সারতে হবে, নিদান দিয়ে গেলেন তিনি। মূলত, শরিক দল আইপিএফটি-র উপর আস্থা রাখতে পারছে না বিজেপি। তাই, একক শক্তিতে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হইতে কৌশল নিয়েছে দল।
দুইদিনের ত্রিপুরা সফরে দফাওয়ারী সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সংগঠন বি এল সন্তোষ। আজ বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা ত্রিপুরার প্রভারী বিনোদ সোনকর, আসাম ও ত্রিপুরা প্রদেশের সংগঠন মন্ত্রী ফনীন্দ্রনাথ শর্মার উপস্থিতিতে প্রদেশ কার্যালয়ে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে তিনি অংশ নেন। ওই বৈঠকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ সভাপতি অধ্যাপক ডঃ মানিক সাহা, উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, ‘হরঘর তিরঙ্গা’ এবং বুথ থেকে শুরু করে প্রদেশ স্তর পর্যন্ত সংগঠন মজবুত ও বিস্তার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া বিগত উপ-নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং আলোচনা হয়েছে।
তবে বিশেষভাবে বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে পাহাড়ে বিজেপির সংগঠন বিস্তারের বিষয়টি। বিধানসভা নির্বাচনে জনজাতি সংরক্ষিত ২০টি আসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওই ২০টি আসনে জয় ত্রিপুরার ক্ষমতা দখলে অনেকটাই নির্ভর করে। তাই, জনজাতি এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য নয়া দিশা-নির্দেশ দিয়েছেন বি এল সন্তোষ। সূত্রের খবর, প্রত্যেকে মন্ডলে বিস্তারক নিয়োগ দেওয়া হবে। পৃষ্ঠাপ্রমুখ থেকে শুরু সকল স্তরের নেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন এবং নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে সদর মহকুমা সহ বিভিন্ন এলাকার দক্ষ সংগঠকদের বিস্তারকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, জনজাতি এলাকায় সংগঠন বিস্তারে দুই মাসের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দলের সংগঠন মহামন্ত্রীর নয়া দিশা-নির্দেশ কঠোর ভাবে পালনে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত, পাহাড়ে তিপরা মথার আস্ফালন এবং শরিক দল আইপিএফটি-র নিষ্ক্রিয়তা বিজেপি-কে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। অবশ্য, ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনের তাগিদে একক শক্তিতে ক্ষমতা দখলই বিজেপির একমাত্র বিকল্প। এক্ষেত্রে যাবতীয় দায়িত্ব জিষ্ণু দেববর্মণ, রামপদ জমাতিয়া এবং রেবতী ত্রিপুরাকে কাঁধে তুলে নিতে হবে। জনজাতি এলাকায় বিজেপির শক্তি উদয়ে ওই তিন নেতার উপরই দল ভরসা করছে।এদিন বি এল সন্তোষ প্রদেশ বিজেপির মিডিয়া সেল, আইটি সেল ও সোশ্যাল মিডিয়া সেল এর কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সামাজিক মাধ্যমে দলের ও সরকারের প্রচার-প্রসার আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তিনি জেলা পরিষদে বিজেপির এমডিসি-দের সাথেও বৈঠক করেছেন।