নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুলাই৷৷ দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম থানা ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে পক্ষপাত মূলক আচরণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে৷ প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এ ধরনের চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ৷ গত ছয় জুলাই দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার অন্তর্গত ছোটখিল রানিরবাজার চা বাগান সংলগ্ণ পূর্ব জলেফা যাওয়ার পথে রাস্তায় টুটন শীল নামে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল৷
রাত দশটা নাগাদ স্থানীয় লোকজন এক যুবকের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দমকল বাহিনীকে খবর দিয়েছিলেন৷ দমকল বাহিনীর কর্মীরা ওই যুবককে রক্তাক্ত ও চৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে সাবরুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল৷ সেখান থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷ জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়৷ মৃত টুটনের পাশেই তার বাইকটি পড়ে রয়েছিল৷
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায় টুটনের সঙ্গে এলাকার এক গৃহবধুর প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল৷ সে ওই গৃহবধুর বাড়িতে যাতায়াত করত৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে এই অবৈধ প্রণয়ের সম্পর্কের জেরেই টুটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে৷ তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলেও আশঙ্কা৷ অথচ পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার বদলে এটি নিছকই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে৷ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনা সন্দেহজনক বলে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে৷ সাব্রুমের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমের এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷
আশ্চর্যের বিষয় হলো টুটনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো পুলিশের হাতে পৌঁছেনি৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগেই পুলিশ কিভাবে নিশ্চিতভাবে বলে দিচ্ছে এটি পথ দুর্ঘটনা? এ নিয়ে জনগণের নানা প্রশ্ণ উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে৷ এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত টুটনের শরীরের নানা স্থানে আঘাতের চিহ্ণ মিলেছে৷ টুটনকে পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে বলেও পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে৷
বাইক দুর্ঘটনায় কোন অবস্থাতেই টুটনের মৃত্যু হয়নি বলে পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে৷পরিবারের সদস্যরা আরো জানান যে যদি টুটনের বাইক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হতো তাহলে শরীরের কোন না কোন জায়গাতে কাটাছেঁড়া দেখা যেত ! তাদের মূল অভিযোগ টুটন শীলকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে৷ ময়নাতদন্ত করার পর হাসপাতালের তরফ থেকে টুটনের মৃতদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পর তারা দেখতে পান টুটনের সারা শরীরে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে৷
তাদের দাবী টুটনের মোবাইলের নাম্বার নিয়ে যদি পুলিশ সুষ্ঠ তদন্ত করে তাহলে তার খুনের রহস্য বেরিয়ে আসবে৷ আগরতলা থেকে মৃতদেহটিকে তার জলেফাস্থিত বাড়িতে এনে সৎকারের পর এ ব্যাপারে টুটনের পরিবারের পক্ষ থেকে সাব্রুম থানায় খুনের মামলা দায়ের করতে গেলে সাব্রুম থানার কর্তব্যরত পুলিশ খুনের মামলা নিতে অস্বীকার করে এবং থানার মধ্যেই পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে এই ঘটনায় বাইক দূর্ঘটনাতেই টুটনের মৃত্যু হয়েছে বলে লিখিয়ে নেয় বলে আজ অভিযোগ করে পরিবারের পক্ষ থেকে৷
ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়াই কিভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে চাপ সৃষ্টি করে বাইক এক্সিডেন্ট বলে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিয়ে নিল আবার পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করতে চাইলেও সাব্রুম থানার পুলিশ মামলা নিচ্ছেন না৷ সাব্রুম থানার পুলিশের এহেন ভূমিকায় প্রচুর প্রশ্ণের সৃষ্টি করছে৷ বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে টুটনের খুনের সাথে জড়িতদের যেন বিচার হয় সেই আবেদনে জানিয়েছেন৷
ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে৷ পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করার জন্য মৃতের আত্মীয় পরিজনসহ এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন৷ পুলিশ এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হবেন বলে জানিয়েছেন৷

