আগরতলা, ৬ জুন(হি. স.): উপনির্বাচনের খেলা শুরু হওয়ার আগেই দুইটি আসনে কার্যত পরাজয় হবে মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে কংগ্রেস। শতবর্ষ প্রাচীন এই দল ত্রিপুরায় টাউন বড়দোয়ালি এবং আগরতলা কেন্দ্রে জয়ী হবে বলে মনে করছে। তাই, সুরমা কেন্দ্রে প্রার্থী দেয়নি এবং যুবরাজনগর কেন্দ্রে পরোক্ষে সিপিএম জিতুক চাইছে কংগ্রেস। অন্তত দলের রাজ্য প্রভারী ডা: অজয় কুমারের কথায় এমনটাই মনে হয়েছে। ফলে, বিজেপিকে হারাতে বামেদের এবং তিপরা মথার সাথে কংগ্রেসের গোপন বোঝাপড়া হয়েছে, নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। আজ প্রদেশ কংগ্রেস তিনটি আসনে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দুইটি আসনে জয় হবে, জোর গলায় দাবি করেছেন রাজ্য প্রভারী অজয় কুমার।
এদিন ৬ নম্বর আগরতলা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, উপনির্বাচনে জয় নিয়ে প্রচন্ড আশাবাদী। কারণ, বিজেপির উপর মানুষ আস্থা, ভরসা হারিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির উপর মানুষের অনাস্থা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পুঁজি। তিনি বলেন, মানুষের পাশে অতীতেও ছিলাম, আজও আছি এবং আগামী থাকব। এই অঙ্গীকার নিয়েই রাজনীতির লড়াইয়ে রয়েছি।

আজ টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আশীষ কুমার সাহা বলেন, নির্ভয়ে ভোট দেওয়া আগামীদিনে বিজেপির অপশাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। মানুষের সেই ভূমিকা নিতে হবে। কংগ্রেস জয়ী হবেই, দৃঢ় প্রত্যয়ের সুরে বলেন তিনি।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য প্রভারী ডা: অজয় কুমার সাফ জানালেন, দল দুইটি আসনে জিতবে। সুরমা কেন্দ্রে বিজেপিকে হারাতে সক্ষম দলকে আমরা সমর্থন করব। যুবরাজনগরে সিপিএম অনেকটাই শক্তিশালী। তবুও, সেখানে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় বিজেপি পরিচালিত সরকার আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের বদলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে চলেছে। তাঁর দাবি, সারা দেশেও একই অবস্থা। বেকারত্ব নিয়ে ভাবনার বদলে হিন্দু-মুসলীমের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করা হচ্ছে। নির্বাচনে জিততে ভাই-ভাইয়ে লড়াই বাধিয়ে দিচ্ছে। তাই, মানুষ এবার মুক্তির লক্ষ্যে বিকল্প শক্তি কংগ্রেসকে জয়ী করবেই, দৃঢ়তার সাথে বলেন তিনি।তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সুরমা এবং যুবরাজনগর কেন্দ্রে সিপিএমের সাথে গোপন বোঝাপড়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আগরতলা এবং টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্রেও গোপন বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিজেপিকে হারানোর রণকৌশল স্থির হয়েছে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল এমনটাই অনুমান করছে। অবশ্য, ওই বোঝাপড়ায় তিপরা মথাও সুযোগের নিতে চাইছে, এমনটাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।


















