পিয়ংইয়ং, ১৬ মে (হি. স.) : দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারন করায় চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে তৎপর হলেন উত্তর কোরিয়ার পরাক্রমশালী শাসক কিম জং উন। করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে যাতে কোভিডের ওষুধের সরবরাহ স্থিতিশীল কর যায়, তা স্থির করতে উত্তর কোরিয়ার সেনাকে নির্দেশ দিলেন কিম।
করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ঘোষণার কয়েক দিন পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবার পিয়ংইয়ংয়ে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। এরইমধ্যে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোভিডের চিকিৎসার ওষুধ ঠিকমতো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোচ্ছে না। দ্রুত ও যথাযথভাবে যাতে ওষুধ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে কারণেই কিমের এই নির্দেশ। পিয়ংইয়ংয়ে ওষুধের সরবরাহে সেনার চিকিৎসক দলকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন কিম জং উন। দেশে যে পরিমাণ ওষুধ রয়েছে, তা সরবরাহেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিম প্রশাসনের তরফে।
এর আগে, রবিবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে কিম জং মন্ত্রিসভা ও জনস্বাস্থ্য খাতকে দায়িত্বহীন আখ্যা দিয়ে তাদের কাজের ধরন ও কৌশলের সমালোচনা করেছেন। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ ও জনস্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কিম বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আপনারা শুধু নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা করার কথা বলছেন। অথচ বাস্তবে আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। কিম আরও বলেন, সরকার জাতীয়ভাবে মজুদকৃত ওষুধ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ফার্মেসিগুলো সময়মত ও সঠিকভাবে রাজ্যের জনগণের কাছে সেগুলো পৌঁছাতে পারছেনা। এ সময় কিম পিয়ংইয়ং শহরে শিগগির ওষুধ সরবরাহ স্থিতিশীল করার জন্য সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী দল মোতায়েন করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও ওষুধ সরবরাহ ও বিক্রয় সম্পর্কে জানতে পিয়ংইয়ংয়ের তাইডং নদীর কাছে অবস্থিত ফার্মেসি পরিদর্শন করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, উত্তর কোরিয়ায় কোভিড পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। কেননা, কোনও কোভিড টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হয়নি সে দেশে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা সেখানে। অনেক দিন আগে থেকেই উত্তর কোরিয়ায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে সে ব্যাপারে কখনই স্বীকার করেননি কিম। তাদের দেশে করোনা সংক্রমণ হয়নি বলে দাবি করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে সরকারি ভাবে সে দেশে করোনা সংক্রমণের কথা জানানো হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে প্রথম থেকে কিম জং উনের সরকার যেভাবে গা-ছাড়া মনোভাব দেখিয়েছে তাতে এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
সোমবার নতুন করে উত্তর কোরিয়ায় করোনা উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫০।জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ৯২০। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিসংখ্যান জানায়নি উত্তর কোরিয়া। জানা যাচ্ছে, এপ্রিলের শেষ থেকে সে দেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ জ্বরে ভুগছেন। বর্তমানে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬০ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এদিকে, কোভিড সংক্রমণকে সে দেশে ‘বড় বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন কিম জং উন। একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন তাঁরা।