আগরতলা, ৩ মে(হি. স.): দেশ বিরোধী গতিবিধির বিরুদ্ধে অভিযানে অসম রাইফেলস বড়সড় সাফল্য পেয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। সাথে পাঁচ জনকে অস্ত্র পাচারের সাথে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিজোরামে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইজল জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
অসম রাইফেলস আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশ বিরোধী গতিবিধির বিরুদ্ধে বিরাট সাফল্য মিলেছে। ২৩ সেক্টর অসম রাইফেলসের ২ নম্বর ব্যাটেলিয়ান প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। গোয়েন্দা খবরের ভিত্তিতে ১ মে দক্ষিণ আইজল জেলা সদর থেকে ১৯ কিমি দূরবর্তী কেলসী এলাকায় অসম রাইফেলসের জওয়ানরা অভিযানে নেমে ওই মারণাস্ত্র উদ্ধার করেছে।
অসম রাইফেলস বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, কেলসী গ্রামে অস্ত্র পাচারের নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে দুইটি গাড়ি আটক করা হয়েছিল। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। অসম রাইফেলস জানিয়েছে, ৩টি পাম্প অ্যাকশন গান, ৫টি পয়েন্ট ২২ রাইফেল, ৭টি টেলিস্কোপ সাইট, ২০ বাক্স এয়ার পেলেটস, ১টি বিপড, ১০টি পিডিএফ ফ্ল্যাগ, ৩ বাক্স পিডিএফ বেজ, সেফটি ফিউজ ৪ বাক্স, ৩০০০ কেজি গেলিটিন(২৪০০০ স্টিকস) এবং গান পাউডার প্রায় ১০০ কেজি উদ্ধার করা হয়েছে।
অসম রাইফেলসের বক্তব্য, উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেখে মনে হয়েছে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। তাতে, বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বেআইনি গতিবিধির জন্যও ওই সমস্ত অস্ত্র পাচার করা হচ্ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ওই সমস্ত অস্ত্র উদ্ধারে প্রচুর মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে, দাবি অসম রাইফেলসের।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইজল জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাঁচ জনকে অস্ত্র পাচারের দায়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বক্তব্য, ওই অস্ত্র হয়তো মায়ানমার অথবা অন্যত্র পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে, ধৃত পাঁচজন কোন উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, মিজোরামে ইতিপূর্বেও প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। উগ্রবাদী কার্যকলাপ চালানোর ক্ষেত্রে মিজোরাম অস্ত্র কারবারিদের জন্য সহজ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। তবে, নিরাপত্তা বাহিনীর সজাগ ও সতর্ক ভূমিকা সেই চেষ্টা সফল হচ্ছে না।