জয়পুর, ৩১ মার্চ (হি.স.): প্রয়াত হলেন গুর্জার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কিরোরি সিং বাইনসলা। দীর্ঘ অসুস্থতার পর বৃহস্পতিবার জয়পুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন কিরোরি সিং বাইনসলা, বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে জয়পুরের মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিন সকালে কিরোরির ছেলে বিজয় বাইনসলা জানিয়েছেন, জয়পুরের হাসপাতালে তাঁর বাবা কিরোরি সিং বাইনসলার জীবনাবসান হয়েছে।
গুর্জার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কিরোরি সিং বাইনসলার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। একটি টুইট বার্তায় শোকব্যক্ত করে স্পিকার জানিয়েছেন, “সামাজিক আন্দোলনের একজন শক্তিশালী নেতা কর্নেল কিরোরি সিং বাইনসলার প্রয়াণে শোকাহত। সামাজিক অধিকারের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি, পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওম শান্তি।” ২০০৯ সালে বিজেপির টিকিটে লোকসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিরোরি, কিন্তু কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে যান।
কর্নেল কিরোরি সিং বাইনসলা রাজস্থানের করৌলি জেলার মুন্ডিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। গুর্জার সম্প্রদায় থেকে আসা, কিরোরি সিং একজন শিক্ষক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কিন্তু তাঁর বাবা সেনাবাহিনীতে থাকার কারণে তিনি সেনাবাহিনীর দিকে ঝুঁকেছিলেন। তিনিও সেনাবাহিনীতে যোগদানের মনস্থির করেন এবং সৈনিক হিসেবে দেশের সেবা করা শুরু করেন। বাইনসলা সেনাবাহিনীর রাজপুতানা রাইফেলসে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর, কিরোরি সিং রাজস্থানে ফিরে আসেন এবং গুর্জার সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর লড়াই শুরু করেন। আন্দোলনের সময় তাঁরা বহুবার রেলপথ অবরুদ্ধ করেছে, ট্র্যাকে ধর্না করেছে। আন্দোলন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও উঠেছে। তাঁদের আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন।