CM Biplab Kumar Deb : ত্রিপুরায় মাছের রেকর্ড সংখ্যক উত্পাদন অনেক বেড়েছে, ওজনে প্রায় ৭০০০ মেট্রিক টন : মুখ্যমন্ত্রী 

আগরতলা, ৩০ মার্চ (হি. স.) : ত্রিপুরায় মাছের রেকর্ড সংখ্যক উত্পাদন অনেক বেড়েছে, ওজনে প্রায় ৭০০০ মেট্রিক টন। মাছের চাহিদার সাথে সাযুজ্য রেখে উত্পাদন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের দাবি, রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতিতে মৎস্য চাষেরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে ত্রিপুরায় মাছের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। সাথে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। যা রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতির অন্যতম নির্ণায়ক। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত রাজ্যস্তরের এক দিবসীয় বায়োফ্লক মৎস্য চাষ কর্মশালা ও মুখ্যমন্ত্রী নিবিড় মৎস্য চাষ প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিবিড় মৎস্য চাষ প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। 

এদিন আট জেলার বায়োফ্লক পদ্ধতিতে সফল মাছ চাষীদের আজ সংবর্ধনা জানানো হয় ও মৎস্য চাষে সাফল্য সম্বলিত একটি পুস্তিকার আবরণ উন্মোচন করেন অতিথিগণ। একজন মহিলা সুবিধাভোগীর হাতে মাছ পরিবহণের গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মৎস্য চাষের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তুলনামূলক অধিক উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সঠিক ব্যবস্থাপনায় গতানুগতিক মৎস্য চাষের পাশাপাশি বায়োফ্লক সহ বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এই পেশার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে।

 তিনি বলেন, মাথাপিছু মাছ গ্রহণের পরিমাণ গত চার বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫.৫৩ কেজি। মৎস্য চাষযোগ্য এলাকা বেড়েছে ৮.২০ শতাংশ। মাছ উৎপাদকের সংখ্যা বেড়েছে ৪.৬২ শতাংশ। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৯৭ শতাংশ। রেকর্ড তৈরী করে যা ওজনে প্রায় ৭০০০ মেট্রিক টন। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার সমস্ত স্তরের মৎস্য জীবিকানির্ভর ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বন্টন পদ্ধতি সরলীকরণের ফলে সমস্ত স্তরের প্রকৃত উদ্যোগীরা সুফল পাচ্ছেন। বর্তমানে মৎস্য চাষের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের আত্মসম্মান সুনিশ্চিত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গতানুগতিক মৎস্য চাষের পাশাপাশি বায়োফ্লক সহ অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্যচাষ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে ত্রিপুরা সরকার। বিগতদিনে মৎস্য উৎপাদনে আগ্রহের ঘাটতি কাটিয়ে মৎস্য চাষ নির্ভর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একটা সময় যারা প্রকৃত উৎপাদক ছিলেন তারা বিভিন্ন জটিলতার কারণে সুবিধাভোগীদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন নিয়ম কানুনে সরলীকরণ ও সংশোধনীর ফলে লিজে যারা মৎস্য চাষ করছেন তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা ঋণের সুযোগ পাওয়ায় কমেছে ঋণখেলাপির সংখ্যা। বর্তমানে সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে অনেকেই এই পেশার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছেন। তিনি বলেন, একটা সময় রাজ্যে এই পেশাকে খাটো করে দেখা হতো। বর্তমানে মৎস্য উৎপাদন এবং ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ঋণের সুযোগ পাওয়ায় মৎস্যজীবীরা আত্মনির্ভরতার নয়া পথ খুঁজে পেয়েছেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া বলেন, সদিচ্ছা এবং মৎস্য চাষে নিত্য নতুন পন্থাকে কাজে লাগিয়ে এর মাধ্যমে আরও বেশি উপার্জন করা সম্ভব। যা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথকে সুগম করবে। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কি করে মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়ানো যায় তার লক্ষ্যে গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয়কে মৎস্য চাষ উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব, মৎস্য দপ্তরের সচিব টিকে দেবনাথ, নাবার্ডের জেনারেল ম্যানেজার এম আর গোপাল প্রমুখ।