CM Biplab Kumar Deb TSR Force : ত্রিপুরার মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ দমনে দক্ষতার ছাপ রেখেছে টিএসআর বাহিনী : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২ মার্চ (হি. স.) : ত্রিপুরার মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ দমনে দক্ষতার ছাপ রেখেছে টিএসআর বাহিনী। কর্মক্ষেত্রে টিএসআর জওয়ানদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য বাস্তবিক অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ও তার নিরসনে সরকার আন্তরিক। আজ খোয়াই জেলার অন্তর্গত চাকমাঘাট টিএসআর ১২ নম্বর ব্যাটেলিয়ন হেডকোয়ার্টার পরিদর্শন শেষে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। আজ প্রথমেই টিএসআর জওয়ানদের দ্বারা আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর ক্যাম্প পরিসরেই বায়োফ্লকের মাধ্যমে মৎস্য চাষ ক্ষেত্রটি পরিদর্শন করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন টিএসআর জওয়ানদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্যের ছাপ রেখে আসছে ত্রিপুরার এই গর্বের বাহিনী। আধিকারিকদের সাথে বৈঠক ও বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাতের সুযোগ হলেও কর্মরত জওয়ানদের অভাব অভিযোগ ও সমস্যা সম্পর্কে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই এদিনের সফর। আগামীদিনে টিএসআর-এর শীর্ষ আধিকারিকরাও নির্ধারিত সূচি অনুসারে এই ধরনের পরিদর্শন কর্মসূচি জারি রাখবেন। হেডকোয়ার্টার থেকে শুরু করে টিএসআর জওয়ানদের থাকার ব্যবস্থা, ক্যাম্পের সীমানা সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা সম্পর্কে সম্যক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।


তাঁর বক্তব্য, যে কারণে টিএসআর বাহিনী তৈরি করা হয়েছিলো বর্তমানে সেই বাহিনীর কাজকর্মে অনেকাংশেই পরিবর্তন এসেছে। সিভিল ডিউটির ক্ষেত্রেও জওয়ানরা দক্ষতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। আরও আন্তরিকভাবে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকার আহ্বান রাখেন তিনি।


সাথে তিনি যোগ করেন, এক সময়ে সন্ত্রাসবাদের দৌরাত্মপূর্ণ গন্ডাতুইসা (পূর্বতন গন্ডাছড়া) সহ বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকাগুলিতে সরকারি কর্মচারিদের বদলি করা হলে তা শাস্তিমূলক হিসেবেই বিবেচিত হতো। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যব্যাপী উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞের ফলশ্রুতিতে অত্যাধুনিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিকমানের সড়ক, স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ, পরিশ্রুত পানীয়জল সহ সর্বাঙ্গীন বিকাশ প্রতিফলিত হচ্ছে। এরফলে বর্তমানে কর্মচারিরা এক সময়ের অনাগ্রহী এই অঞ্চলের কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত হচ্ছেন।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের ভাবনা পথেই জীবন পরিচালিত হয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সবার সজাগ থাকা আবশ্যক। সুচিন্তন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ়তা, লক্ষ্য নির্ধারিত কর্মকৌশল আর্থিক সমৃদ্ধির পথকে মসৃণ করে। দেশ এবং রাজ্য ঠিক কোন পথে পরিচালিত হচ্ছে তার পাশাপাশি প্রবাহমান ঘটনাবলী সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য জওয়ানদের প্রতি আহ্বান রাখেন তিনি।