BJP MLA Ashish Das: দলবিরোধী কাজ, বিধানসভার সদস্য পদ খারিজ বিজেপি বিধায়ক আশীষ দাসের, আইনের দ্বারস্ত হওয়ার হুমকি সুরমার বিধায়কের

আগরতলা, ৫ জানুয়ারি (হি. স.) : ত্রিপুরা বিধানসভার সদস্যপদ খোয়ালেন সুরমা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক আশীষ দাস। আজ বিধানসভার অধ্যক্ষ তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের আদেশ জারি করেছেন। দল বিরোধী কাজের অপরাধে সংবিধানের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের ৬ নম্বর ধারায় তিনি বিধানসভার সদস্য হিসেবে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছেন অধ্যক্ষ। তাই, তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী। এদিকে, বিধায়ক পদ খারিজের সরকারীভাবে কাগজ প্রাপ্তির পর আইনের দ্বারস্ত হবেন বলে জানিয়েছেন আশীষ দাস।


বেশ কিছুদিন ধরেই দলবিরোধী কাজ করছিলেন বিধায়ক আশীষ দাস। ২০১৮ সালে নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হবে গত কয়েকদিন ধরে দলের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। এমনকি, বিজেপি দলে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে কালিঘাটে গিয়ে মাথা মুড়িয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য জনসভায় তিনি তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি তৃণমূলের কর্মসূচিতে প্রতিদিন অংশ গ্রহণ করে চলেছেন। আজকেও তিনি তৃণমূলের রাজভবন অভিযানে অংশ নিয়েছেন।


আজ বিধানসভা সচিবালয়ে অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, দলবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে মুখ্য সচেতক কল্যানী রায় গত ২৫ অক্টোবর আশীষ দাসে বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জানান। ওই আবেদনের ভিত্তিতে গত ২৭ অক্টোবর আশীষ দাসের জবাব তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্ত, ওই নোটিশ গ্রহণ করলেও আশীষ বাবু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের খন্ডন করে জবাব দেননি। তাই, পুণরায় ১২ নভেম্বর তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং ২৬ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছিল। কিন্ত, বাড়িতে কাউকে না পেয়ে ওই নোটিশ ফিরে আসে। ফলে, ১৪ ডিসেম্বর সময় নির্ধারণ করে তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে কিংবা লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রেও তাঁর তরফে কোন সাড়া মিলেনি।


অধ্যক্ষ জানান, গত ১২ ডিসেম্বর আবেদনকারী কল্যানী অতিরিক্ত হলফনামা জমা দিয়ে বিধায়ক আশীষ দাসের বিধানসভার সদস্য পদ দ্রুত খারিজের আবেদন করেন। তাই, কমলপুর থানার মাধ্যমে আশীষ দাসের বাড়িতে নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিন্ত, কোন লাভ হয়নি। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে পুলিশ ওই নোটিশ তাঁর দরজায় লাগিয়ে আসেন এবং সমস্ত বিষয় বিধানসভার সচিবকে অবগত করেন। তিনি বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর ওই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছিল। ওইদিন আবেদনকারী কল্যানী রায় উপস্থিত ছিলেন, কিন্ত বিধায়ক আশীষ দাস আসেননি।
বিধানসভার অধ্যক্ষ বলেন, বিজেপি বিধায়ক হয়েও আশীষ বাবু দলের বিরুদ্ধে লাগাতর বিষোদগার করেছেন। কলকাতায় গিয়ে কালিঘাটে মাথা মুড়িয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, আগরতলায় প্রকাশ্য জনসভায় আশীষ বাবু তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাতে, সংবিধানের সমস্ত নিয়ম উল্লঙ্ঘন করেছেন। তাই, তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় প্রক্রিয়া চালিয়ে একাধিকবার সাফাই দেওয়ার সুযোগ দিয়েও কোন সদুত্তর না পেয়ে আশীষ দাসে বিধায়ক পদ খারিজ করা হয়েছে।


তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তরুণ বিধায়কের এই পরিনতি সত্যিই দুর্ভাগ্যের। কিন্ত, আইনের উর্দ্ধে আমরা কেউ নই। যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও আশীষ বাবু সুযোগের সদ্বব্যবহার করেননি। তাই, তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজ থেকেই ওই আদেশ কার্যকর হবে। এখন থেকে বিধায়ক হিসেবে কোন সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। এমনকি পেনশনও তিনি পাবেন না।


এদিকে, এইপিএফটির বিধায়ক বৃষকেতু দেব্বর্মার বিধানসভার সদস্য পদ খারিজের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এ-বিষয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ বলেন, বৃষকেতু দেব্বর্মার সাথে আশীষ দাসের তফাৎ রয়েছে। তবে, খুব শীঘ্রই বৃষকেতুর বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদনের নিস্পত্তি করা হবে।
বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘোষণা শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন বিধায়ক আশীষ দাস। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ পদে অযোগ্য ব্যক্তি আমাকে বিধায়ক হিসেবে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ণয় করে দিচ্ছেন। তবে, সরকারীভাবে এ-সংক্রান্ত কোন কাগজ হাতে পায়নি। কাগজ পেলে আইনের দ্বারস্ত হব, সাফ জানালেন তিনি।