নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ নভেম্বর৷৷ চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে কৈলাসহর আর জি এম হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা৷ চূড়ান্ত এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলো কৈলাশহর বাসী এবং হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনেরা৷
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যারা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন বিশেষত বহির্বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের সকলকে প্রথমেই কোভিড পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন৷কিন্তু এই টেস্টিং সেন্টারে যারা এই দায়িত্ব পালনে থাকেন তাদের কাউকেই সময়মতো সেখানে পাওয়া যায় না৷ এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের যেমন লাইন দীর্ঘ হতে থাকে তেমনি রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের ও প্রায়ই এ ব্যাপারে ক্ষোভ বিক্ষোভ করতে দেখা যায়৷ নিত্য কার এ ঘটনা আজ তীব্র আকার ধারণ করে৷
আকস্মিক দুর্ঘটনায় পতিত ছোট এক বাচ্চাকে নিয়ে তার পরিজনেরা আজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার প্রথমে তাকে কোভিড টেস্টের নির্দেশ দেন৷ এদিকে বাচ্চার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিলো, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় যাবত টেকনিশিয়ানের জন্য অপেক্ষা করেও যখন টেকনিশিয়ান আসছিল না তখন সে ব্যাপারে ডাক্তারকে জানানো হলেও ডাক্তার টেকনিশিয়ানের খোঁজ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে থাকেন৷
কিন্তু দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীর তাৎক্ষণিক পরিষেবা দিতে রাজি ছিলেন না৷ এমতাবস্থায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাচ্চার দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করলেও ডাক্তার নিজ সিদ্ধান্তে ছিলেন অনড়৷ এ নিয়ে যখন প্রচণ্ড ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখা দেয় তখন কর্তব্যরত ডাক্তার এ বিষয়ে পরিষ্কার বলেন যে, কোভিড পরীক্ষা না করে তিনি চিকিৎসার পরিষেবা দিতে পারবেন না৷এ বিষয়ে কারোর কোন অভিযোগ বা বক্তব্য থাকলে মেডিকেল সুপারেন্টেন্ড নিকেন্দ্র বাবুর এর সাথে কথা বলতে পারেন৷ তারপর মেডিকেল সুপারেন্টেন্ড এর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে ফোন রিসিভ করা হয়নি৷এ নিয়ে জনমনে এবং চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে ডাক্তার ও কোভিড টেস্টিং সেন্টারের টেকনিশিয়ানের মধ্যে প্রায়ই বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়৷ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা রোগীরা এজাতীয় হেনস্থা থেকে আশু মুক্তি চাইছেন৷

