নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ আগস্ট৷৷ দুই দশকের ব্রু শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলেও, তাঁদের পুনর্বাসন নিয়ে ত্রিপুরায় মাঝে মধ্যেই অসন্তোষের মুখে পড়ছে রাজ্য সরকার৷ ত্রিপুরায় আজ ধলাই জেলায় আমবাসা ব্লকের অধীন হরিণাছড়া এলাকায় ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসনে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় জনগণ আমবাসা-গন্ডাছড়া রাস্তা অবরোধ করেছেন৷ পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, ওই এলাকায় ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ তাই, এখনই দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই৷ তাতে আশ্বস্ত হয়ে গ্রামবাসীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন৷
প্রসঙ্গত, জাতি দাঙ্গার শিকার হয়ে প্রাণ রক্ষায় মিজোরাম থেকে ত্রিপুরায় পালিয়ে এসেছিলেন রিয়াং জাতিগোষ্ঠির প্রচুর মানুষ৷ দুই দশকের অধিক সময় ত্রিপুরায় বিভিন্ন শিবিরে তাঁরা শরণার্থীর জীবনযাপন করেছেন৷ তাঁদের মিজোরামে প্রত্যাবর্তনে একাধিকবার চেষ্টা হয়েছিল৷ কিন্ত, প্রতিবার কোন না কোন অজুহাতে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ভেস্তে গিয়েছে৷ অবশেষে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ব্রু শরণার্থীদের রাজ্যেই পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন৷ তাতে, কেন্দ্রীয় সরকারও সম্মতি প্রকাশ করেন৷ দিল্লিতে চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং ব্রু শরণার্থীদের ত্রিপুরায় পুনর্বাসনে কেন্দ্রীয় সরকার প্যাকেজের অনুমোদন দেয়৷ সে মোতাবেক ত্রিপুরায় তাঁদের পুনর্বাসনে স্থান চিহ্ণিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ কিছু শরণার্থীদের ইতিমধ্যে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে৷
ধলাই জেলায় হরিণাছড়া এলাকায় ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসনে ত্রিপুরা সরকার স্থান চিহ্ণিত করেছে৷ তাতে, স্থানীয় জনগণ তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন৷ আজ ওই আপত্তির জেরে স্থানীয় জনগণ আমবাসা-গন্ডাছড়া রাস্তা অবরোধ করেছেন৷ গ্রামবাসীর বক্তব্য, হরিণাছড়া এলাকায় প্রায় ৩০০ জনজাতি পরিবারের বসবাস৷ সকলেই জুম চাষের উপর নির্ভরশীল৷ কিন্ত, ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসন দেওয়া হলে জুম চাষে ব্যাঘাত ঘটবে৷ তাছাড়া, তাঁদের ধর্মীয় রীতিনীতিতেও প্রভাব পরার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তাই, ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসনের প্রতিবাদে আজ স্থানীয় জনগণ রাস্তা অবরোধ করেছেন৷
খবর পেয়ে আমবাসা ডিসিএম এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অবরোধস্থলে ছুটে যান এবং তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করান৷ আমবাসা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বলেন, হরিণাছড়ায় ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসনে স্থান চিহ্ণিত করা হয়েছে ঠিকই৷ কিন্ত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ আদৌ ওই স্থানে ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে প্রশাসন স্থির করেনি৷ তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে এ-বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে৷ তাঁদের এক প্রতিনিধি দল ওই আপত্তি নিয়ে জেলা শাসকের সাথে দেখা করবেন বলে স্থির হয়েছে৷

