Piyush Kanti Biswas resigns : হাই কমান্ডের অনুরোধে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস অস্থায়ী সভাপতি পদে ইস্তফা ফিরিয়ে নিলেন পিযুষ কান্তি বিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ আগস্ট।। কংগ্রেস হাই কমান্ডের অনুরোধে ইস্তফা প্রত্যাহার করলেন প্রদেশ কংগ্রেস অস্থায়ী সভাপতি পিযুষ কান্তি বিশ্বাস। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় দলের অন্দরে কোনা সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই, ব্যর্থতা স্বীকার করে প্রদেশ সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়েছিলাম। কিন্ত, স্থানীয় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে হাই কমান্ডের তরফে ইস্তফা প্রত্যাহারের অনুরোধে আমি সম্মতি জানিয়েছি।


আজ সকালে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের অস্থায়ী সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বরিষ্ঠ আইনজীবী পিযুষ কান্তি বিশ্বাস। সাথে তিনি রাজনীতি থেকেও সন্ন্যাস নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাতে, অসমের পর ত্রিপুরায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছিল কংগ্রেসের গায়ে।
ইস্তফা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ছাত্র জীবন থেকেই কংগ্রেসের সাথে যুক্ত রয়েছি। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক পদ সামলেছি। এনএসইউআই সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেছি। এখন কংগ্রেস দল ছেড়ে দেওয়া এবং রাজনীতি থেকে অবসর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবুও, এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বলেছিলেন তিনি।


পিযুষ বাবু জানিয়েছিলেন, প্রদেশ কংগ্রেসের অস্থায়ী সভাপতি পদে পদত্যাগ পত্র ইতিমধ্যে সোনিয়া গান্ধীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন পুণরায় কর্মজীবনে ফিরে যেতে চাইছি। তাঁর দাবি, আইনজীবী হিসেবে প্রচুর সুনাম ও সম্মান অর্জন করেছি। তাই, পুণরায় পেশায় মনোনিবেশ করতে যাচ্ছি।
পিযুষ কান্তি বিশ্বাসের ইস্তফার খবরে দেশ জুড়ে শোরগোল পরে যায়। ত্রিপুরায় এআইসিসির নব নিযুক্ত প্রভারী ডা. অজয় কুমার এ-বিষয়ে পিযুষ বাবুর সাথে আলোচনা করেন এবং ইস্তফা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তিনি এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আজ ত্রিপুরা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি পিযুষ কান্তি বিশ্বাস দলের নতুন প্রভারীর আশ্বাসে ইস্তফা প্রত্যাহার করেছেন। ডা. অজয় কুমার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সমস্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে। তিনি আগামী ২৯ আগস্ট ত্রিপুরা সফরে এসে পিযুষ বাবুর সাথে সমস্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন।


এদিন পিযুষ কান্তি বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ বছরের সম্পর্ক থেকে হাই কমান্ডের অনুরোধ ফিরিয়ে দিতে পারিনি। সোনিয়া গান্ধী এবং প্রভারী ডা. অজয় কুমারের আশ্বাসে আপাতত ইস্তফা ফিরিয়ে নিচ্ছি। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় দলের অন্দরে কোন সহযোগিতা ছিল না। তাতে, সংগঠন পরিচালনা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছিল। তাই, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। হাই কমান্ড সমস্ত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়ে ইস্তফা ফিরিয়ে নিয়েছি।
তাতে, আপাতত ত্রিপুরা নিয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত এআইসিসি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির ইস্তফার খবরে দেশ জুড়ে দারুন শোরগোল পড়েছিল। তিনি অন্য দলে যোগদান করবেন এমনও চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে, সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন ত্রিপুরায় কংগ্রেসের নতুন প্রভারী।